চুলার আগুনে ফেলে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রায় ঘোষণার পর দণ্ডিতের মেয়ে মুনমুন এজলাসের বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 11:38 AM
Updated : 31 July 2022, 11:38 AM

দেড় যুগ আগে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে চুলার আগুনে ফেলে পুড়িয়ে মারার দায়ে ঢাকার গোপীবাগ বাগানবাড়ি এলাকার আমিন ওরফে ফকির আমিন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার তার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত। তিনি আমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন।

রায় শুনে দণ্ডিত ও তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে আমিনের মেয়ে মুনমুন পঞ্চম তলার এজলাসের বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বারান্দায় অজ্ঞান হয়ে যান।

রায়ে বলা হয়, নিহত শাবানা বেগম মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে বলেন, তার স্বামী আমিন বিয়ের সময় তিন লাখ টাকা যৌতুক নেন। পরে আরও ১ লাখ টাকা যৌতুক চান।

তখন বাবা আরজু মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেন শাবানা। বাকি ৮০ হাজার টাকার জন্য ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বরে সকালে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান স্বামী আমিন। একপর্যায়ে তিনি শাবানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে ধাক্কা দিয়ে চুলায় ফেলে দেন।

তখন শাবানার বোন শাহানা বেগম (যিনি পাশের বাড়িতে থাকেন) এগিয়ে এসে বোনের শরীরে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে জবানবন্দি দেওয়ার পর শাবানা মারা যান। সেসময় তাদের মেয়ের বয়স ছিল ৯ বছর, ছেলের ২ বছর।

এরপর নিহতের বোন তৎকালীন শিক্ষানবিশ আইনজীবী শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে ডেমরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় শাবানা-আমিন দম্পতির মেয়ে মুনমুন প্রথমে বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেও পরে বাবার পক্ষ নিয়ে সাক্ষ্য দিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক রায় দিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ ট্রাইবুনালের বিশেষ কৌঁসুলি মাহমুদা আক্তার। আর আসামির পক্ষে ছিলেন মো. আফ্ফান আলী।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক