Published : 01 Jan 2024, 12:16 AM
আগের বছরের তুলনায় শেষ হতে যাওয়া বছরে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যু প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে, প্রাণ গেছে ৮৭৫ জনের বলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করা পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
একইভাবে বেড়েছে কর্মস্থলে দুর্ঘটনার হারও। আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রায় ৩১ শতাংশ দুর্ঘটনা বেড়েছে, এ বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা ৭১২টি।
কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা ও পরিবহন-এ পাঁচ খাতে এসব ঘটনা ঘটে বলে বেসরকারি সংস্থা ‘সেইফ অ্যান্ড রাইট’ (এসআরএস) জানিয়েছে।
রোববার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসআরএসের নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে সারাবছর কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যুর এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে দুর্ঘটনা কমিয়ে শ্রমিক মৃত্যু রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারের প্রতি সুপারিশ তুলে ধরে আসছি।
“কিন্তু দুর্ঘটনা কমানোর কার্যকর কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় শুধুমাত্র কোভিড মহামারীর একবছর অর্থাৎ ২০২০ সাল ছাড়া বাকি ৯ বছরে শ্রমিক মৃত্যুর হার কেবলই বেড়েছে।”
মৃত্যুর পর শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না বলেও তিনি জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি ৩২৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন পরিবহন খাতে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে (ওয়ার্কশপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ) মারা গেছেন ১৮৫ জন, নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১৭৩ জন, কল-কারখানা ও অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে এই সংখ্যা ৯৬ জন এবং কৃষি খাতে ৮২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৬ জন; বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১১৭ জন; আগুন এবং বিভিন্ন বিস্ফোরণে ৭৯ জন; উপর থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৭০ জন; বজ্রপাতে ৬৩ জন; শক্ত বা ভারী কোন বস্তুর আঘাতে বা চাপা পড়ে ৩৮ জন; মাটি, সেতু, ছাদ এবং দেয়াল ধসে ২৩ জন; রাসায়নিক দ্রব্য বা সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ২০ জন; পানিতে ডুবে ১০ জন এবং অন্যান্য কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শ্রমিক নিহতের কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, ফিটনেসহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগে বাধা, বেপরোয়া যান চলাচলকে দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
কারখানা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি না নেওয়া, নিরাপত্তার বিষয়ে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ না দেওয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ দেওয়া, ভেজা হাতে মোটর চালু করা, বিদ্যুতের লাইনের নিচে কাজ করা, ভারী জিনিস উত্তোলন, নিরাপত্তাবেষ্টনী ব্যবহার না করে মাঁচার উপর কাজ করা; রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারে অদক্ষতা এবং সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
তাছাড়া কাজ করার সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কারণেও কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে এসআরএস।
সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, “কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে, তা না হলে দুর্ঘটনা বাড়তেই থাকবে।”
এসময় এসআরএসের আইন কর্মকর্তা হাসিনা খানম, প্রকল্প কর্মকর্তা বি-আম্মা মল্লিকা উপস্থিত ছিলেন।