একনেকে আরেকটি মেগা প্রকল্প: সাকি বললেন, জনগণের প্রয়োজন থেকেই বড় প্রকল্প
“প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন; এটা সরকারের অগ্রাধিকার, দেশের অগ্রাধিকার।”
দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো, প্রাথমিক শিক্ষা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, নগর উন্নয়ন ও পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন পায় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
বিকালে আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সরকার অর্থায়ন করবে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
অনুমোদিত পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রকল্পটির জন্য সরকার দেবে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এক সাংবাদিক বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, কোনো মেগা প্রকল্প নেওয়া হবে না। কিন্তু মেট্রোরেলসহ একেক পর এক মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে সরকার কোনো চাপে বা গোপনে অবস্থান পরিবর্তন করছে কি না?
জবাবে জোনায়েদ সাকি বলেন, “গোপনে বা কোনো চাপের কারণে তৈরি হচ্ছে না; একান্তই জনগণের প্রয়োজন থেকে প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। মেট্রো রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঢাকা শহরের জন্য আর কী হতে পারে?
“আপনি ঢাকার যদি… এখন মানুষ যা চলাচল করে, সেই চলাচলের এক-তৃতীয়াংশকে যদি আমরা মানে মেট্রোরেল, কিংবা আন্ডারগ্রাউন্ডেড ব্যবস্থা যে মেট্রোরেল তৈরি হচ্ছে—তার মধ্যে আমরা নিয়ে যেতে না পারি; ঢাকায় চলাচল করাই তো একটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সুতরাং, এইটা আপনি মেগা না অমেগা সেটা আসলে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ না; বরং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে ঢাকায় আমরা কীভাবে আমাদের চলাচল ব্যবস্থাকে উন্নতি করতে পারব।”
প্রাথমিক শিক্ষায় বড় বরাদ্দের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর ধরেন কী হতে পারে। এবং প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন; এটা সরকারের অগ্রাধিকার, দেশের অগ্রাধিকার এবং সেই ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা করব। এটা তো মেগা প্রকল্পের প্রশ্ন না।”
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর আগের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ছিল ৬ হাজার ৫৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
এ ছাড়া অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আগের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ছিল ৬ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও পরিচালন যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত যানবাহন কেনায় ব্যয় হবে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। পরিচালন যানবাহন কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দুটি প্রকল্পই বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পুলিশ।
এ বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেনি, “৫ অগাস্টের সময় পুলিশের বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে আইনশৃ্ঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা প্রয়োজন।”
নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বরেন্দ্র অঞ্চলে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, নালা নির্মাণ ও পুনঃখননে ব্যয় হবে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন ৬৫৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩২ ও ৩৩ নম্বর কূপ খনন, পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট স্থাপন, ঢাকার সেনানিবাস ও জিগাতলায় সরকারি আবাসন নির্মাণ এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনীও রয়েছে।
