“আমাদের আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে যে কীভাবে লাখ লাখ তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ করে তোলা যায়,” বলেন তিনি।
Published : 19 Dec 2024, 05:25 PM
অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে (এসএমই) আরো তহবিল যোগানোর জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ডি এইটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তরুণরা যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠে আসতে পারে, সেজন্য শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দুটি প্রস্তাব তিনি তুলে ধরেছেন ডি এইট নেতাদের সামনে।
মিশরের কায়রোতে বৃহস্পতিবার ডি এইট সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, “আসুন, তরুণ উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আমরা ফলপ্রসূ আলোচার উদ্যোগ নিই; চেষ্টা করে দেখি, তাদের নিয়ে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যায় কি না।
“এরকম একটি উদ্যোগ এগিয়ে নিতে এবং ২০২৫ সালে প্রথম মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সম্মেলন আয়োজনে বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে।”
ইউনূস বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ বয়সী, যা বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখনকার জনসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশিদের গড় বয়স ২৭ বছর। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর বড় কর্মক্ষম জনশক্তি থাকলেও সাধারণভাবে তারা স্বল্পদক্ষ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ ও তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে শিল্প ও সেবাখাতের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ- এমনকি এশিয়া, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বে ভ্রমণ করে আমি দেখেছি আজকের লাখ লাখ তরুণ কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে অথবা নতুন সুযোগের সন্ধান করতে- চারপাশের সবকিছুতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে দ্রুত গ্রহণ করছে, যা কয়েক বছর আগেও অনেকে অসম্ভব বলে মনে করেছিল।”
তিনি বলেন, “যুব উদ্যোক্তাদের বিশ্ব হিসেবে 'কাজের জগৎ' যেভাবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, তাতে ছেলে-মেয়েদের অর্থনীতির নেতৃত্বে আনার জন্য জায়গা তৈরির উপায় খুঁজে বের করতে হবে ডি এইট দেশগুলোকে।”
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমাদের সঙ্গে থাকা ডিজিটাল বিপ্লবের পূর্ণ সুবিধা আমরা এখনও গ্রহণ করতে পারিনি। আসুন, আমাদের উদ্যোক্তা ছেলে-মেয়েদের জন্য আমরা পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।”
তিনি বলেন, “আমি সুনির্দিষ্ট দুটি প্রস্তাব করতে চাই। প্রথমত, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও সমতুল্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গভীর কার্যকর এবং ফলপ্রসূ সংযোগ আমরা তৈরি করতে পারি- বিশেষত ছেলে ও মেয়েদের উদ্যোক্তা হিসাবে প্রস্তুত করার দিকে মনোযোগ দিতে পারি।… আমাদের উদ্যোক্তা এবং উচ্চ শিক্ষাকে এখনকার চেয়ে অনেক কাছাকাছি অবস্থায় আনতে হবে।”
দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দ্বিতীয় প্রস্তাবে ইউনূস বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে আমাদের দেশগুলোর লাখ লাখ মানুষকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং দক্ষতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ১২০ কোটি মানুষের মধ্যে এটি একটি ক্রমবর্ধমান কঠিন কাজ।
“…আমাদের আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে যে কীভাবে লাখ লাখ তরুণ প্রাপ্তবয়স্ককে কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ করে তোলা যায়- যেখানে সঠিক মনোভাব, মূল্যবোধ, নৈতিকতার মতে কঠোর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।”