Published : 17 Aug 2026, 04:12 PM
সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামো আরও পর্যালোচনা করা দরকার জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এ কাঠামো এ বছরই বাস্তবায়ন হবে।
তার কথায়, “পে কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে তো, আমরা সবগুলো বিবেচনা করছি। আজকে অনেক আলোচনা হয়েছে, দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং আরও অধিকতর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আছে।
“বিধায় পরে আমরা আবার বসব। যখন ফাইনাল হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত যখন আসবে, তখন আপনাদের সাথে তুলে ধরব।”
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, নতুন পে-স্কেল চলতি বছরেই বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “সময়মতো হবে। অবশ্যই হবে। এবছরের মধ্যেই হবে।
“সবই হবে, কিন্তু এখানে তো অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে।”
এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; আরও দিক আছে।
“যখন পূর্ণাঙ্গ হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন হবে।”
এর আগে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘যে কোনো মুহূর্তে’ নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে।
তবে তাতে করে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে সাধারণ জনগণের জন্য পরিস্থিতি যে আরও ‘কষ্টকর’ হয়ে উঠবে তা তিনি মানছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।
বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা বলেছিলেন। পে কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথাও তিনি সে সময় বলেছিলেন।
তবে নির্বাচন পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজে হাত দেওয়ায় অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বিগত সরকারের বাজেটে সেই অর্থের সংস্থান না থাকায় নতুন করে বরাদ্দ পেতে বাড়তি বেতন বাস্তবায়নে যে অর্থ রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে খরচের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।
তাছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাড়তি দামে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানিতেও খরচ বাড়ছে।
এরপর নতুন অর্থবছরের বাজেটে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও আদতে এর সুযোগ থাকছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের-আইএম কাছে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরুর আগ্রহের আলোচনার মধ্যে তাদের তরফে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংকুলান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পরে ২০২৫ সালে নতুন বেতন কমিশন গঠিত হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
সে সময় কমিশনপ্রধান বলেছিলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
জনগণের জন্য 'কষ্টকর' হবে, তবে পে-স্কেল ঘোষণা যে কোনো মুহূর্তে: মুখ্য সচিব