Published : 30 Aug 2025, 01:18 PM
গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা নিরসনের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।
সহকারী শিক্ষক পদকে চাকরির প্রাথমিক স্তর (এন্ট্রি পদ) ধরে একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি দেওয়ার দাবি সহকারী শিক্ষকদের।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এ মহাসমাবেশ ডেকেছে।
মোর্চাভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকে শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের এ সমাবেশ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার করেছেন, ফলে প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা এসেছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক মহাসমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।
“মামলা জটিলতায় সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত, তাই তারা প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে পদোন্নতির সুযোগ চাচ্ছেন। উচ্চতর গ্রেড একজন সরকারি চাকরিজীবীর প্রাপ্য হলেও সেটি নিয়েও জটিলতা আছে। আর সহকারী শিক্ষকদের মূল দাবি একাদশ গ্রেডে বেতন।”

তার মতে, বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন না দিলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে না।
“শিক্ষককে, তার পরিবারকে অভুক্ত রাখলে তিনি কীভাবে পাঠদানে বা শিক্ষার মানোন্নয়ন বা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে মনযোগ দেবেন? শিক্ষকদের এ প্রাণের দাবিগুলো আদায়েই আমাদের এ সমাবেশ।”
মহাসমাবেশে অংশ নিতে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির-এনসিপি, জামায়তে ইসলামীসহ রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছেন এই শিক্ষক নেতা।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা তারা পৌনে চার লাখ শিক্ষকের প্রাণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবেন।”
এদিকে বেলা বারোটার দিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি শিক্ষকদের মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের বেতন ও গ্রেড জটিলতা নিরসন এবং পদোন্নতির পথ খুলতে ঢাকায় এসেছি।”
সারা দেশ থেকে মহাসমাবেশে আসা হাজারো শিক্ষকের দাবি বাস্তবায়নে সরকার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, তাদের এমন প্রত্যাশার কথা বলেছেন এই শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষককরা তাদের তিন দফা দাবিতে ২৬ মে থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। দাবি আদায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ৫ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দিনে এক ঘণ্টা, ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত দুই ঘণ্টা, ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন।
পরে গত ২৯ মে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলে কর্মবিরতির কর্মসূচি ২৫ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন।
গত ২৪ এপ্রিল ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে ও ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নিত করার উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।