Published : 21 Mar 2026, 10:45 AM
ঢাকার আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঈদের জামাতের মোনাজাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইরানের বিজয় প্রার্থনা করেছেন হাজারো মানুষ।
শনিবার সকাল ৮টায় সেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে ঈদ জামাত আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
মোনাজাতে ইমাম বলেন, “হে আল্লাহ, ইরানকে ধ্বংস করার জন্য আমেরিকা সম্মিলিত আক্রমণ করেছে, ইরানকে বিজয় অর্জনের শক্তি দিন, অমুসলিমদের সমস্ত পরিকল্পনারও ধ্বংস করে দিন।”
মোনাজাতে সবার পরিবার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন ইমাম।
এ ঈদ জামাতে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিলটন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেনসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লির অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন উত্তর সিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও।
পুরনো বাণিজ্য মেলা মাঠে বড় প্যান্ডেল তৈরি করে ১০ হাজার মানুষের একযোগে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা বলেছিল ডিএনসিসি। পাশে আরেকটি প্যান্ডেলে ৫০০-৭০০ নারীর জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।

নামাজ শুরুর সময়ে হাল্কা বৃষ্টি হলেও নামাজে তেমন ব্যাঘাত ঘটেনি। নামাজের আগে জুতা রাখার জন্য পলিথিন বিতরণ করতে দেখা যায় রোভার স্কাউটস সদস্যদের।
তিন প্রজন্ম মিলে বাড্ডা থেকে আগারগাঁওয়ে নামাজ পড়তে এসেছিলেন প্রায় সত্তর বছর বয়সী আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে আমিনুল বাহার এবং নাতি ইনতিজার আমিন হামীম।
আয়কর আইনজীবী আমিনুল বাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উত্তরের বাসিন্দা হিসাবে সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতে এসেছি।
“পরিবেশ ভালোই আছে। সবার সঙ্গে নামাজ পড়ার আনন্দও আছে।”
মিরপুরের ৬০ ফুট এলাকা থেকে পরিবারের নারী-পুরুষ সব সদস্যকে নিয়ে এই জামাতে আসেন ব্যবসায়ী মতিউর রহমান। নামাজ শেষে নাতনি সামিয়ার সঙ্গে করে ফিরছিলেন তিনি।

মতিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এলাকার মসজিদে শুধু পুরুষদের নামাজের ব্যবস্থা আছে। এখানে নারীদের ব্যবস্থা থাকায় সবাই মিলে এসেছি।
“নামাজ পড়ে আত্মীয় স্বজন এবং দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহ সবার জন্য দোয়া করেছি।”
উত্তর কাফরুল এলাকা থেকে বোন এবং মেয়েকে নিয়ে নামাজে এসেছেন সুরাইরা আক্তার। এবার প্রথম এখানকার ঈদ জামাতে আসার কথা বলেছেন তিনি।
এই গৃহিণী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা সব জায়গায় থাকে না, এখানে আছে তাই আসলাম।
“বড় জায়গা হওয়ার কারণে কোনো ঝামেলাও পোহাতে হয়নি।”

মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসা আরেক নারী বলেন, পরিবারের দুই পুরুষ সদস্য এবং মা-মিলে ঈদ জামাতে এসেছেন তিনি।
“নারীদের নামাজের ব্যবস্থা থাকার কারণে আমি সবসময় এখানে আসি। সবার সঙ্গে নামাজ এবং সবার জন্য দোয়া করলাম।”
মোনাজাতের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রশাসক মিলটন বলেন, “আপনাদের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আমাদের চেষ্টাটা করেছি।
“এবার কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা সে অনুযায়ী আগামীতে পদক্ষেপ নেব, যাতে আপনাদেরকে আরও স্বাচ্ছন্দে নামাজ আদায়ের সুযোগ করে দিতে পারি।”
ঢাকা নগরকে সুন্দর, পরিষ্কার এবং বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি মুসল্লিদের দেন তিনি।