Published : 28 Aug 2026, 12:00 AM
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করে সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে সভাপতি করা হয়েছে।
একইভাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও পুনগর্ঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নওশাদ জমিরকে।
এছাড়া নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং একটি বিশেষ কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে তার পক্ষে এসব কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির আগের সভাপতি আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ায় পদটি শূন্য হয়েছিল।
সভাপতির পদে আসা জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য। মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম খান, ফখরুল ইসলাম, শওকতুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, সাইফুল আলম ও রাশিদুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির আগের সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হওয়ায় ওই কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।
নওশাদ জমিরকে সভাপতি করে পুনর্গঠিত কমিটিতে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ইমরান আহমেদ চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, মনজুরুল ইসলাম, হাসান রাজীব প্রধান, নাজিবুর রহমান, আখতার হোসাইন ও আল ফারুক আব্দুল লতিফকে সদস্য রাখা হয়েছে।
দুই কমিটি থেকে গাজী নজরুল বাদ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের আগে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে একজন সদস্যের পরিবর্তে আরেকজনের নাম যুক্ত করা হচ্ছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে গাজী নজরুল ইসলামের জায়গায় জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছকে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদের পরিবর্তে জামায়াতের রায়হান সিরাজীকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। রোকেয়া বেগমও বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন।
আর পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি থাকছেন মনিরুল হক চৌধুরী।
এর আগে ১৪ জুলাই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১২ মার্চ জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করে গঠিত বিশেষ কমিটি থেকেও গাজী নজরুলকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানকে যুক্ত করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত বিশেষ কমিটিতে মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবদুল বারী, নওশাদ জমির, ফারজানা শারমিন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও নাজিবুর রহমান সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গেল ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পরদিন বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেয় দলটি।
এরপর ১৮ অগাস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
কার্য উপদেষ্টা ও হিসাব কমিটিতেও পরিবর্তন
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জায়গায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে ওই কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদাধিকারবলে কমিটির সভাপতি।
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি থাকছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিরোধী দলের সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের বদলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে এই কমিটিতে নেওয়া হয়েছে।