১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হাসপাতাল, শিল্পকলার প্রতিশ্রুতিতে ‘বাড়ল সময়’, সংসদে হাস্যরস

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পর নিজের বক্তৃতার সময় বাড়াতে একই পথ অনুসরণ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Apr 2026, 09:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:31 PM

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তব্যের সময় বাড়াতে ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনি এলাকার দুই হাসপাতাল উন্নয়নের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

পরে নিজের বক্তৃতার সময় বাড়াতে একই পথ অনুসরণ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।  তিনি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এলাকায় শিল্পকলা একাডেমি ও বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বৈঠক চলাকালে এ নিয়ে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বক্তব্য শুরুর সময় ডেপুটি স্পিকারের উদ্দশে বলেন, “মাননীয় স্পিকার অনেককে আপনি সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ আপনাকে চা খাইয়েছেন, সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ আপনার সঙ্গে ওকালতি করেন, আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন, সময় দিয়েছেন।”

এরপর নিজের পরিচয় দিয়ে বকুল বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের একজন কমান্ডার ছিলাম, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য। কাজেই আমাকে ওনার বদৌলতে সময় ডাবল দিতে হবে মাননীয় স্পিকার।”

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হাসতে হাসতে বলেন, “মাননীয় সদস্য, আপনি যদি আমার থানার দুই হাসপাতালকে ইকুইপ্ট করেন, তাইলে দুই মিনিট বাড়াবো।”

তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ওকে।”

পরে নির্ধারিত সময়ের বাইরে তাকে আরও চার মিনিট সময় দেওয়া হয়।

এ সময় সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।

এরপর বক্তব্য দিতে উঠে সময় বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় বলেন, “আমি বয়স্ক মানুষ, আমাকে দিলেন পাঁচ মিনিট। আর একটু হাসপাতাল দেওয়ার কথা বলায় আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিলেন প্রায় ১৫ মিনিট। এত বৈষম্য আমরা চাই না, মাননীয় স্পিকার।”

এ কথা শুনে আবারও সংসদ সদস্যদের অনেকে হাসতে শুরু করেন।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “বৈষম্য হচ্ছে না। আমার দুই থানায় শিল্পকলা একাডেমি নেই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কিছু নেই। তারপরও দুই মিনিট।”

ডেপুটি স্পিকারের কথা শেষ হওয়ার আগেই নিতাই রায় বলেন, “আমি আপনাকে শিল্পকলা একাডেমি দেব। বাদ্যযন্ত্র দেব।”

এই কথাতেও সংসদে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।