নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান তিতুমীরের
এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত হতে হবে।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এর ব্যবহার বাড়াতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, মানুষের মধ্যে চাহিদা তৈরি করা সম্ভব হলে, সেই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে প্রযুক্তি ও অর্থায়নের সরবরাহ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত হতে হবে।
ঢাকার পুরানা পল্টনের ইআরএফ মিলনায়তনে ‘ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি: দ্য ফিউচার সোলার সলিউশন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোববার তিনি কথা বলছিলেন।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ও ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্ম (ডিআরইপি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে।
“আমাদের আসলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত”, বলেন তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের চাহিদা প্রকাশিত হলে সরবরাহ ব্যবস্থাও সেই চাহিদা অনুসরণ করবে।
গণশিক্ষা অভিযান, খাল খনন কর্মসূচি ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে তিতুমীর বলেন, জনগণের অংশগ্রহণে এসব কার্যক্রম গণজাগরণে পরিণত হয়েছিল। একইভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তীতুমীর বলেন, “রান্নার জন্য সৌরব্যবস্থা ব্যবহার করা গেলে গ্যাস ও এলপিজির ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এতে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থ সাশ্রয় হবে। গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ভূমিকা রাখতে পারে।”
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার যুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ দেশে উৎপাদন করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সোলার পিভি, ব্যাটারি ও ইনভার্টার স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে শিল্প পর্যায়ে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ ভোক্তা বাজারের কারণে এ খাতে বৃহৎ পরিসরে শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি গৃহস্থালি ব্যয় কমাবে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ অন্য খাতে ভোগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে।
অতীতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে ‘বিষধর ব্যবস্থা’ আখ্যায়িত করে তিতুমীর বলেন, সেই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে আমদানি ব্যয় কমবে এবং জ্বালানিতে স্বাবলম্বিতা বাড়বে।
কোভিড মহামারী ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বে অনিশ্চয়তা নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী সংস্কৃতির দিকে যেতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের নীতিগত ও রাজস্ব সহায়তার কথা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক যানবাহন দেশে উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বাজেটের কর কাঠামোতেও এর প্রতিফলন রয়েছে।
“এ খাতে নীতিতে ‘প্যারাডাইম শিফট’ হয়েছে এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন তহবিল ও পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি রয়েছে।“=”
সরকারের সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আরও কী করা প্রয়োজন, তা পর্যালোচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। সহজ শর্তে অর্থায়ন বা নতুন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির প্রয়োজন হলে সরকার তা বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছঠেন।
তিতুমীর বলেন, দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যবহার ও জ্বালানি ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা থাকা উচিত। কোনো এলাকায় কাজ করা সংস্থাগুলো কত পরিবারকে ঋণ দিচ্ছে এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির কথাও বলেন তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা জ্বালানি খাতের অলিগার্কি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি ভাঙতে ভূমিকা রাখবে মন্তব্য করে তিতুমির বলেন, গৃহস্থালি, অফিস, দোকান, হাসপাতাল ও স্কুলে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে।
তবে সব জায়গায় একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে না জানিয়ে তিনি জ্বালানি মিশ্রণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিতুমির বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে নেওয়ার কথা বলছে।
তার ভাষ্য, দীর্ঘ মেয়াদে শুধু রাজস্ব প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে নীতিগত সহায়তার দিকে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। সূচনা বক্তব্য দেন ডিআরইপির সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে ‘রিনিউয়েবলস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। ধন্যবাদ বক্তব্য দেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
