১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, ‘রেশনিংয়ের’ ভাবনা

মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধের পর জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, ‘রেশনিংয়ের’ ভাবনা
.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Mar 2026, 05:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:05 PM

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, এই সংকট কেবল বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুদ দিয়েই পরিস্থিতি সামলাতে হবে। সেজন্য “বিভিন্ন সেক্টরে রেশনিং করার” কথা ভাবছে সরকার।

তার কথায় “আমার হাতে যা আছে সেটাকে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত আমার সাপ্লাই লাইন ঠিক না হয়।”

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার এখন মূলত ‘সংকট ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ যতদিন থাকবে ততদিন ক্রাইসিস থাকবে। বলতে পারেন, আমরা এখন ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি।”

তিনি জানান, চার কার্গো এলএনজি ইতোমধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে, সেগুলো ৯ মার্চের মধ্যে পৌঁছে যাবে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহেরও চেষ্টা করছে। তবে ‘স্পট পারচেজে’ সেরকম সাড়া মিলছে না।

এ পরিস্থিতিতে অপচয় কমানোর জন্য নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “যা আছে সেটাকে সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে। দেশের মানুষ সহযোগিতা করলে এই ক্রাইসিস পার হয়ে যাওয়া সম্ভব।”

বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়তে পারে কি না–সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।

“আমি এখনো লোডশেডিং নিয়ে কিছু বলিনি। তবে সরকার চেষ্টা করছে যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে থাকে। আমার উদ্দেশ্য, যাতে মিনিমাম দিতে পারি। এখন পর্যন্ত যে রিভিউ করেছি, তাতে মনে হয়েছে খুব একটা বেশি কিছু হবে না। অসহনীয় হবে না।”

রোজায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইফতারি থেকে তারাবির সময় পর্যন্ত যেন লোডশেডিং না হয় সেইভাবে আমরা প্ল্যান করছি।”

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ক্রাইসিস থাকবে ঈদের ছুটি পর্যন্ত। এই সময়টা যদি সাশ্রয় করে পার করা যায়, ছুটির পরে ডিমান্ড কমে যাবে।”

গত কিছু দিনে ডিজেল বিক্রি ‘অস্বাভাবিকভাবে’ বেড়ে গেছে জানিয়ে এর কারণ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় পাচারের আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধের পর জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

“ইউক্রেইন একটা জায়গায় ছিল, কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি সেটা জ্বালানি সরবরাহের মূল অঞ্চলে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশকে জানাবেন।

তার সঙ্গে এদিন সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। এসময় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘কৌশলগত বন্ধন’ জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন পল কাপুর।

টুকু বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।