১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ বুঝিয়ে দিল পুলিশ, খোঁজ নেই ক্যামেরার

নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে গত ১১ অক্টোবর রাতে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 05:33 PM

Updated : 13 Oct 2026, 05:33 PM

জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার ওয়েবারের হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের পর সেটি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে ল্যাপটপের সঙ্গেই খোয়া যাওয়া তার ক্যামেরার এখনো খোঁজ মেলেনি।

পুলিশ সদরদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মঙ্গলবার আইজিপি আলী হোসেন ফকির আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিল ওয়েবারের কাছে ল্যাপটপটি হস্তান্তর করেন। পুলিশ সদরদপ্তরে এ অনুষ্ঠানে বাহিনীর অন্যান্য ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি (ম্যাকবুক) উদ্ধার করে পুলিশ। ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে জার্মান নাগরিক ক্রিল পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণকালে নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইজিপি মঙ্গলবার নাটোর সদর থানার ওসি মনসুর রহমান ও এসআই মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন। আইজিপি প্রশংসনীয় কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যেরও প্রশংসা করেছেন।

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদান, দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে ‘অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের’ নির্দেশনা দেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এদিকে ল্যাপটপের সঙ্গে ক্রিল ল্যান্ডার ওয়েবারের হারানো ক্যামেরা খুঁজতে কাজ চলছে বলে তথ্য দিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

জার্মান পর্যটক ক্রিল ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করতে গেল ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

এ সময় তিনি তার ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে তিনি নিজের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে নাটোর সদর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।

খোয়া যাওয়া ল্যাপটপে তার গত ছয় মাসের কার্যক্রম ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ছিল বলে দাবি করেন ক্রিল। তার লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাধিক টিম হারানো ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।