১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘রাজনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে’

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের অনেকেই পালিয়ে যান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Feb 2026, 10:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর এবং যথাযথ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইন্সটিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

ঢাকার ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে ‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি’ নিয়োগ জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও ‘দুর্বল’ করবে বলে মঙ্গলবার সংগঠনের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এদিন ছয় সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন-ঢাকা দক্ষিণ সিটির আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটির শফিকুল ইসলাম খান, খুলনার নজরুল ইসলাম মনজু, সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাখাওয়াত হোসেন খান ও গাজীপুরের শওকত হোসেন সরকার।

রোববার এসব সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে বিএনপির এই ছয় নেতাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আইপিডি বলেছে, “সদ্য ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে ‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি’ নিয়োগের ফলে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে। 

“শুধুমাত্র সরকারদলীয় এসব নিয়োগ স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করতে পারে; যা নতুন সরকারের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের অনেকেই পালিয়ে যান। 

এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। 

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। 

আইপিডি বলছে, “এই ভোগান্তি নিরসনে অতি দ্রুত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বিগত সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন আয়োজন না করে জনভোগান্তিকে দীর্ঘায়িত করেছে। 

“স্থানীয় সরকারে পুনরায় প্রশাসক নিয়োগ এই অচলাবস্থা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।” 

নির্বাচিত মেয়রের বদলে সরকার সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসালেও সিটি করপোরেশনগুলোতে কাউন্সিলর না থাকায় নগরবাসীর ভোগান্তি কমবে না বলে মনে করছে আইপিডি। কারণ মূলত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়।

কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিকদের নিত্যদিনের সমস্যা, যেমন— জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো মেরামত ইত্যাদি—দ্রুত সমাধান হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ভোগান্তি বাড়ছে। 

কোনো অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা থাকলেও তা নির্বাচিত প্রতিনিধির বিকল্প হতে পারে না বলে মনে করে আইপিডি।

তারা বলছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের অধীনেই স্থানীয় সরকার পরিচালিত হতে হবে৷ ফলে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করা সংবিধানের চেতনার ‘পরিপন্থি’। 

সেজন্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ দ্রুত সকল পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, দলীয় প্রতীকমুক্ত নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে আইপিডি।