Published : 03 Feb 2026, 09:27 PM
আইনি লড়াই শেষে চট্টগ্রাম ও শেরপুরে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুললেও ফলাফল প্রকাশে শর্ত রেখে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মঙ্গলবার পৃথক পৃথক আদেশে এ নির্দেশনা দেয়।
বিএনপির এ তিন প্রার্থী হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী এবং শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরী।
সরওয়ার আলমগীর ও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি এবং ফাহিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ আনেন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
ঋণখেলাপের অভিযোগে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাই কোর্টে রিট মামলা করলে আদালত প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল আমীন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে।
নুরুল আমিনের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মত ঋণ গোপন করে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ করিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন আপিল করলে ইসি তার প্রার্থিতা বাতিল করে।
“হাই কোর্ট সেই আদেশ স্থগিত করলেও আজ আপিল বিভাগ আমাদের লিভ মঞ্জুর করেছেন। আদালত বলেছেন, সরোয়ার সাহেবের নির্বাচন চলবে, কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল উইথহেল্ড থাকবে। অর্থাৎ রেজাল্ট পাবলিশড হবে না।”
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২,১৭০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।
আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “আসলাম চৌধুরী ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার ঋণের এক পয়সাও পরিশোধ না করে মনোনয়নপত্র বৈধ করিয়েছিলেন।
“সেটার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছিলাম। ইলেকশন কমিশন আপিলটা অবৈধভাবে খারিজ করেছে। সেটার বিরুদ্ধে আমরা রিট পিটিশন ফাইল করেছি। রিট পিটিশনটা খারিজ করেছিলেন হাই কোর্ট ডিভিশন। সেটার বিরুদ্ধে আমরা অ্যাপিলেট ডিভিশনে আজকে সিপি মুভ করেছি।
“অ্যাপিলেট ডিভিশন লিভ গ্রান্ট করেছেন এবং বলেছেন যে ইলেকশন হবে কিন্তু ইলেকশন রেজাল্ট উইথহেল্ড থাকবে যতদিন পর্যন্ত আপিল বিভাগের আপিল হেয়ারিং না হবে।”
শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী শেরপুরের ফাহিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া।
ফাহিম চৌধুরীর প্রতিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “উনি অস্ট্রেলিয়ার সিটিজেন। উনি নমিনেশন পেপার জমা দেওয়ার ছয়দিন পরে এসে উনার সিটিজেনশিপ রিনাউন্স করেছিলেন।
“আমরা বলেছি এই রিনাউন্সিয়েশন অবৈধ। অ্যাপিলেট ডিভিশন সেখানেও আমাদের পক্ষে লিভ গ্রান্ট করেছে। লিভ গ্রান্ট করে বলেছেন যে উনার ইলেকশন রেজাল্ট যেটা হবে সেই রেজাল্টটা ফলো করবে আমাদের আপিলের রেজাল্টকে।”