Published : 07 Jan 2026, 11:04 PM
বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে জাহাজের নোঙরের আঘাতে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে ফাটলের কারণে রাজধানীর একাংশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
পাইপলাইনটি গত রোববার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চার দিন চেষ্টার পর বুধবার বিকালে এটির মেরামত কাজ শেষ হয়। তবে এখনও আমিন বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আদাবর, আজিমপুর, পুরান ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক লাখ গ্রাহক এখনও তীব্র ভোগান্তিতে রয়েছেন।
বুধবার রাতে তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
পরিস্থিতি শুক্র বা শনিবার স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ (বুধবার) রাতে যদি গ্যাস ব্যবহার কম থাকে তাহলে বৃহস্পতিবার সকালেও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে উত্তরায় একটি কাজের জন্য গ্যাসলাইন আবার শাটডাউন থাকবে। তাই পুরো ঢাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।”
শীতকালে রাজধানীজুড়ে চাপ কম থাকায় এমনিতেই গ্যাসের তীব্র সংকট থাকে। এরমধ্যে পাইপলাইনের এ সমস্যার কারণে রাজধানীর ওই অংশের বেশির ভাগ এলাকায় তিন দিন ধরে চুলাই জ্বলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্না হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যেখানে খাবারের দামও অনেক বেশি।
এ বিষয়ে তিতাসের মহাব্যবস্থাপক সাইদুল বলেন, আমিন বাজার থেকে একটি গ্যাসলাইন বুড়িগঙ্গার নিচ দিয়ে ঢাকার দিকে গেছে। একটি জাহাজের নোঙরের আঘাতে পাইপলাইনটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় চার দিন ধরে ডুবুরি দিয়ে মেরামতের কাজ করা হয়, যা বুধবার বিকালে শেষ হয়েছে।
পাইপলাইনে ফাটলের ফলে বড় ধরনের লিকেজের কারেণে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ায় সেটি পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
প্রকৌশলী সাইদুল বলেন, এখন গ্যাস দিয়ে আবার লাইনে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণত ব্যবহার কম থাকলে চাপ দ্রুত স্বাভাবিক হয়। তবে কর্মদিবস হওয়ায় অনেক গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। এতে চাপ দ্রুত বাড়ছে না।
“আশা করি, পরিস্থিতি শুক্রবার বা শনিবার স্বাভাবিক হতে পারে।”
এ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস বলেছে, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ এর সহযোগিতায় লাইনের ‘লিকেজে ক্ল্যাম্প’ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে ওই লাইন থেকে ঢাকার নেটওয়ার্কে ২৫ পিএসআইজি চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বাহ্যিকভাবে কোনো গ্যাস লিকেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির আব্দুল হাই বলেন, “গত দু’দিন পাইপলাইনে গ্যাস নেই, তাই হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আগে দুপুরের দিকে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও বিকালে তা স্বাভাবিক হতো। কিন্তু গত দু’দিন চুলায় জ্বালানি নেই।”
সংকটের প্রভাবে শহরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স দোকানে ইনডাকশন কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন ধরে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং দামও বেড়েছে।
আদাবরের বাসিন্দা আখিরা ইসলাম বলেন, “কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস না থাকা একদম অমানবিক। পরে বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনে আনতে হলো। চুলাও আবার আগের থেকে দাম বেশি নিয়েছে।”
এছাড়া, কম গ্যাসচাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।