Published : 12 Aug 2026, 11:56 PM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে দুর্নীতির দুটি মামলায় পৃথকভাবে আসামি থাকা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর ‘মামলা না’ থাকার যে তথ্য আগে দিয়েছিল দুদক, তা এখন সংশোধন করা হয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে পাঁচ মাস পর এখন ওই দুই কর্মকর্তার নামে মামলা থাকার তথ্য দিয়ে বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই চিঠির পর এক প্রকৌশলী পদোন্নতিও পেয়েছেন বলে বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এখন ভুল স্বীকার করে একই তারিখ ও স্মারকে আগের চিঠির জায়গায় নতুন চিঠি দিয়েছে দুদক।
বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম আগের চিঠির স্থলে প্রকৃত তথ্য দিয়ে নতুন চিঠি পাঠানোর কথা বলেছেন।
প্রকৌশলী দুজন হলেন-মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদ। বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল পরে পদোন্নতি পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন। মওদুদ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আমিনুল ৯ নম্বর আসামি।
অপরদিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মওদুদ ৯ নম্বর আসামি। দুটি মামলার তদন্তই দুদকের মানিলন্ডারিং শাখায় চলছে।
যেভাবে গেল ‘মামলা নেই’ চিঠি
দুদক ও বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বরের একটি চিঠির জবাবে চলতি বছরের ১১ মার্চ চিঠি দেয় দুদক। এতে আমিনুল ও মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই বলে জানানো হয়।
দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এ চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনার ও সচিবের একান্ত সচিবদের দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুদকের ওই চিঠির পর আমিনুল নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান।
দৈনিক ইনকিলাবে গত সোমবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। মঙ্গলবার বিফ্রিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগের চিঠিতে ভুল তথ্য থাকার তথ্য স্বীকার করেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, একই তারিখ ও স্মারকের আগের চিঠির স্থলে প্রকৃত তথ্য দিয়ে একটি প্রতিস্থাপন চিঠি পাঠানো হচ্ছে। নতুন চিঠিতে কোন কর্মকর্তা কোন মামলার আসামি, তা বলা থাকবে।
“এটি ভুলক্রমে হয়েছে নাকি সচেতনভাবে করা হয়েছে- তা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্য বেবিচককেও জানানোর কথা বলেন তিনি।
ভুল হল কীভাবে
কীভাবে এমন ভুল হল- সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছে দুদক। সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পদোন্নতিসংক্রান্ত এ ধরনের অনাপত্তির আবেদন কমিশনের অনুমোদনের জন্য যায় না। সচিবের কাছেও যায় না। দুদকের বিভিন্ন শাখা থেকে তথ্য নিয়ে পরিচালক পর্যায়ে চিঠি দেওয়া হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কোনো কোনো মামলার রেজিস্টারে সব আসামির নাম আলাদা করে লেখা হয় না। প্রধান আসামির নামের পর শুধু ‘সহ ১৭ জন’ লেখা থাকে। রেজিস্টার হালনাগাদ না থাকলে যাচাইয়ের সময় কোনো আসামির নাম বাদ পড়তে পারে।
তবে এই দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে মামলার তথ্য বাদ পড়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মামলা নেই বলে চিঠি দেওয়ার আগে আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল।
২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ করা মামলাটির নম্বর ৮৪। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়। তারিক আহমেদ সিদ্দিক মামলার ১ নম্বর আসামি। মইদুর রহমান মো. মওদুদ ৯ নম্বর আসামি।
অপরদিকে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ করা মামলাটির নম্বর ৮৫। এই মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। আমিনুল হাসিব ৯ নম্বর আসামি।