Published : 03 Feb 2026, 06:27 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তিনি কূটনীতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, তবে তিনি কোথাও ‘যাবেন না’।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন বলে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ‘হিড়িক’ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “না না, হিড়িক না। আমি দিয়ে দিয়েছি। আমি আর যাব না কোথাও, সেটা এক নম্বর। আমার স্বাস্থ্যটা খুব ইসে না, আপনি জানেন।
“আমি আর এমন জরুরি কিছু না। আমি সাধারণত জরুরি মিটিং ছাড়া কোনো মিটিংয়ে যাই না। সেজন্য আমি দিয়ে দিয়েছি, অনেকেই দিয়ে দিচ্ছে। এটা নিয়ম হল, দিয়ে দেওয়া।”
তার সঙ্গে তার স্ত্রীর পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সালেহউদ্দিন আহমেদ তুলে ধরেন।
উপদেষ্টাদের কূটনীতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে রোববার ঢাকার কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টকে।
তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার তথ্যটি সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, নিজে না করলেও উপদেষ্টা পরিষদের কেউ কেউ কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। তবে কারা করেছেন, তাদের নাম বলেননি তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মন্ত্রীরা কেউ কেউ করছেন, কারণ এরপরে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রশ্ন আছে। পাসপোর্ট তো এখন থেকে নিয়ে নিলেন, যাতে করে তাদের ভিসা নিতে সহজ হয় আরকি। সময়মতো তারা নিতে পারেন।
“তারা নিয়েছেন কেউ কেউ। এটা ঠিক। তবে এটা ঠিক নয় যে, আমি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছি। আমার পাসপোর্ট যথারীতি বহাল আছে।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমি ঠিক জানি না। আমি দিয়ে দিয়েছি, আমার ওয়াইফেরটাও। ও তো কম ট্রাভেল করে। ফাওজুল কবির (জ্বালানি উপদেষ্টা) বোধহয় দিয়েছে। এটা নিয়ম হল, দিয়ে দেওয়া। আগের গভর্নর থাকার সময়েও আমরা দিয়েছিলাম।
“ওটা জমা দিয়ে দিয়েছি, আমাদের আর নতুন করে পাসপোর্ট করতে হবে না।
“আপনাদের মতোই অর্ডিনারি পাসপোর্ট নিয়ে এখন আমার ঘোরাঘুরি।”
নির্বাচনের জন্য কত খরচা হল?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে এর প্রচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর খরচা হয়েছে তা ধোঁয়াশা রয়েছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এটা এক্সাক্টলি আমি জানি না। খুব বেশি না, মোটামুটি আমাদের প্রিন্সিপালটা ছিল যাতে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হয়, নির্বিঘ্নে হয়। যেমন সিসি ক্যামেরা লাগবে, এগুলোর ব্যাপারে আমরা কোনো কার্পণ্য করিনি।
"এবং যেটা টাকা, সেটা আমরা দিয়ে দিচ্ছি। রিসেন্টলি আবার অ্যাডিশনাল কিছু টাকা চেয়েছে বোধ হয়, সেটা আমি দিয়ে দেব।”
‘হ্যাঁ-না’ ভোটের প্রচার জন্য ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা নাকি বরাদ্দ দেওয়ার সংবাদের জেরে প্রশ্ন হলে তিনি বলেন, “না না ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সাথে ইলেকশন কমিশনের কোনো না (সম্পর্ক)। আমরা টাকাটা দিয়েছি ইলেকশন কমিশনকে।
“ইলেকশন কমিশন খরচ করছে ল-এন্ড-এনফোর্সিং, রিটার্নিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার—এদের পেছনে। যথেষ্ট কঠিন হিসাবরক্ষণ করতে হয়। 'হ্যাঁ-না' ভোটের জন্য কে কোথায় ঘোরাঘুরি করল, কী করল সেটার জন্য আমরা টাকা দিচ্ছি না।”
এস আলমের সালিশি মামলা লড়বে সরকার
গত অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাংকে সালিশি মামলা করেছেন আলোচিত ব্যবসায়ী মো. সাইফুল আলম (এস আলম)।
সেই মামলায় তার অভিযোগ, অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে সেগুলো ফিরিয়ে আনার যেসব উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, তাতে তাদের পারিবারিক ব্যবসায় ‘কোটি কোটি ডলার’ ক্ষতি হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সাইফুল আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে (আইসিএসআইডি) সালিসি আবেদনটি জমা দেন।
আবেদনে এস আলমের পরিবার দাবি করেছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাব স্থগিত এবং কোম্পানির বাজারমূল্য ধ্বংস করতে ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা’ চালিয়েছে।
পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে ইউনূস সরকারের যে প্রচেষ্টা, তাতে এই মামলা বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইসিএসআইডি এখন সরকারের জবাব চেয়েছে বলে তুলে ধরেছেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস হচ্ছে আমাদের, আপনারা জানেন যে অর্থ পাচারের ব্যাপারে এস আলম বোধহয় একটা কেস করেছে লন্ডনে এবং চ্যালেঞ্জ করেছে ইকসিডে (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস)
“ইকসিড হল ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটা আর্বিট্রেশন ইস্যু। ওরা তো লিগ্যাল ফাইট করবে, আমরা একজন আইনজীবীকে নিযুক্ত করব। কারণ এটা বহু টাকার ব্যাপার। ওরা আবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো অর্গানাইজেশনে কমপ্লেইন করেছে সেই জন্য।”
এস আলমকে নিয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “না এস আলম যেটা করেছে অর্থ পাচারের ব্যাপারে, তার বিরুদ্ধে তো অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। সে একটা ইসে আছে ইকসিড বলে— আইসিএসআইডি আপনারা জানেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আর্বিট্রেশন করে যে ব্যবসা বাণিজ্যে কোনো সরকার বা কোনো কোম্পানি যদি বাধা দেয়।
“আর্বিট্রেশন থেকে আমাদের নোটিশ দিয়েছে, আর্বিট্রেশনের জবাব দিতে হবে আমাদের। এবং এটা খুব কমপ্লিকেইটেড, সহজ তো না এগুলো। সেজন্য আমরা ওদিকে আইনজীবী দিচ্ছি।”
এদিন ক্রয় কমিটির বৈঠকে সার কেনা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ যৌক্তিকরণ করা হয়ে বলে তুলে ধরেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “একটা হলো সারের কথা আমরা বলেছি। বিভিন্নরকম সার কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কতগুলো ট্যারিফ রেশনালাইজ করা হয়েছে।”
এছাড়া খতিয়ান ও ম্যাপ ডিজিটালাইজড হচ্ছে বলে অর্থ উপদেষ্টা তুলে ধরেন।