Published : 15 Sep 2026, 06:49 PM
বছর দেড়েক আগে রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়ার ঘটনায় স্ত্রীকে দুই ধারায় মোট সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন সোমবার মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান জানান।
তিনি বলেন, আসামি মোসাম্মৎ রুমা আক্তারকে দুই ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাঁচি দিয়ে আঘাতের দায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আর গুরুতর আঘাতের দায়ে তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে। ফলে রুমাকে সর্বোচ্চ চার বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানান আইনজীবী আতাউর রহমান।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুনে সিয়াম ও রুমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা বংশালের কসাইটুলী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিয়াম বাইরে থেকে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রুমা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে ঘুমন্ত সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে সিয়ামের বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলও রক্তাক্ত জখম হয়।
ঘটনার দিনই সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৫ মে রুমাকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন বংশাল থানার এসআই ফেরদৌস আলম।
এরপর ১০ নভেম্বর রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। রুমাও নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত সোমবার রুমাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল।