১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ইনুর লিখিত বক্তব্য

আগামী ২ এপ্রিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ইনুর লিখিত বক্তব্য
হাসানুল হক ইনু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Mar 2026, 01:55 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

চব্বিশের অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ মঙ্গলবার তিনি ৬৪ পৃষ্ঠার এ লিখিত বক্তব্য দেন। 

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। 

আগামী ২ এপ্রিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।

এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। হত্যার নির্দেশসহ তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ইনু তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘কাল্পনিক’ ও ‘পুরোপুরি বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। 

যে হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে তিনি এবং তার দল জাসদের ‘বিন্দুমাত্র যোগাযোগ নেই’ এবং এই মামলা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে তার দাবি।

লিখিত বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনে কাউকে হত্যা তো দূরের কথা, কোনো মানুষের ওপর একটা লাঠিচার্জেরও বিরুদ্ধে ছিলাম আমি। তবু আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিদ্বেষপ্রসূত, ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি সম্পূর্ণ নিরপরাধ।”

ইনু লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ২০২৪ সালের ৩ ও ৪ অগাস্ট তার কাছের মানুষজন তাকে দেশের বাইরে চলে যেতে বলেছিলেন। তারা সব ব্যবস্থাও করেছিলেন। তিনি তাদের কথা শোনেননি। একাধিক দিন বাসাতেই ছিলেন। এমনকি ঢাকার রাস্তায় কাজের প্রয়োজনে চলাচলও করেছেন।

“আমাকে কাঠগড়ার দাঁড় করানো হয়েছে কুষ্টিয়ায় ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর নির্দিষ্ট ৬টি হত্যাকাণ্ডের দায়সহ সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে। ৮টি অভিযোগের মাত্র ১টি অভিযোগ হল কুষ্টিয়ার ঘটনায়, আর বাকি ৭টি ঘটনা সারাদেশের। 

“অথচ তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া ব্যাতিত অন্য কোন স্থানে তদন্তের জন্য যায়নি। এবার বোঝেন মাননীয় ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত কর্মকর্তার এই তদন্ত রিপোর্ট কতখানি মনগড়া ও ত্রুটিপূর্ণ!”

তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ স্ব-বিরোধী দাবি করে ইনু বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দিতে এক জায়গায় বলেছেন, ‘ড্রোন দিয়ে চিহ্নিত করে হেলিকপ্টার দিয়ে আন্দোলনকারীদের উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ একটু পরে আরেক জায়গায় বলেছেন, ‘হেলিকপ্টার দিয়ে বম্বিং করা হয়েছে।’

“আন্দোলন চলাকালে ঢাকা কিংবা সারাদেশে কোথায় হেলিকপ্টার থেকে বম্বিং করা হয়েছে তার একটা প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা কি ট্রাইব্যুনালকে দেখাতে পেরেছে? কিংবা কোনো আন্দোলনকারীকে হেলিকপ্টার দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে?” 

দুটোর একটা কথারও ‘বাস্তব ভিত্তি নেই, সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি ক রেন ইনু। 

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যের সূত্র ধরে ইনু বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ফোনালাপে ‘ঘর থেকে বেরুলেই গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই ফোনালাপে স্পষ্ট শোনা যায় একাধিকবার বলা হচ্ছে, কারফিউ মনোভাব কঠোর থাকবে তবে গুলি করা যাবে না, কাউকে আটক করলেও থানায় কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রেখে ছেড়ে দিতে হবে কোর্টে চালান না করে। 

“যেহেতু তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যের গড়মিল, সেহেতু এখানেই প্রমাণিত হয়, এই মামলা খুবই নিম্নমানের বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা।”

চব্বিশের অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলা করা হয় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গতবছর ২ নভেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে ইনুর বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।