Published : 14 May 2026, 01:17 PM
দালাল চক্রের দৌরাত্ম আর চিকিৎসার ‘অবহেলায়’ এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের নামে মামলার আবেদন হয়েছে।
ওই ঘটনায় মারা যাওয়া জিন্নাত আলীর ছেলে আবু হুরায়রা বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে এ আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মণ্ডল বলেন, "আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন।"
মামলার আবেদনে ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ছাড়াও হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস এম এম নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ম্যানেজার, সহকারি ম্যানেজার, রিসিপশনিস্ট জুনায়েদ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলু এবং সিকিউরিটিগার্ড সাইদুরকে আসামি করার কথা বলা হয়েছে।
বাদী তার আর্জিতে বলেন, তার বাবা জিন্নাত আলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে সেখানে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সেখানে ওয়ার্ড বয় শহিদ রোগীকে জরুরী বিভাগে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে আবু হুরায়রাকে এসে বলে, তার বাবার হার্টে নয়, মাথায় সমস্যা। তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। এখানেসহ ঢাকার কোথাও আইসিইউ খালি নাই। হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে। সেখানে কম টাকায় চিকিৎসা করাতে পারবে। প্রতিদিন মাত্র ১৫ হাজার টাকা লাগবে।
শহিদের কথামত রাজি হলে সেসহ আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলু, সাইদুর গাড়ি ঠিক করে সোয়া ৮টার দিকে আবু হুরায়রার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। এর ১০ মিনিট পর ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার ও জুনায়েদরা ২০ মিনিটের মধ্যে রোগীর পরীক্ষা করানো ও ওষুধ কেনার জন্য সাড়ে ১৫ হাজার টাকা নেয়।
ওষুধ কেনার জন্য তারা আবারও টাকা চাইলে আবু হুরায়রার সন্দেহ হয়। তিনি তখন ডা. নিরব হোসেন ও ডা. সিরাজুলকে বলেন, তার বাবার চিকিৎসা এ হাসপাতালে করাবেন না। তারা তাকে বোঝান যে, এখানে চিকিৎসা ‘ভালো’। তারপরও আবু হুরায়রা জোর দিলে রিসিপশনে গিয়ে বিল পরিশোধ করে রোগী নিয়ে যেতে বলেন।
রিসিপশনে গিয়ে আবু হুরায়রা দেখেন, ২৭ হাজার টাকা বিল হয়েছে। বিল পরিশোধ ছাড়া তার বাবাকে নিয়ে যেতে পারবে না বলে জানানো হয়।
আবু হুরায়রা তার অভিযোগে বলেছেন, ডা. নিরব হোসেন ও ডা. সিরাজুলকে তিনি বারবার অনুরোধ করেছিলেন। পরে নিরব হোসেনের নেতৃত্বে ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার ও জুনায়েদরা তাকে আটকে রেখে মারধর করে এবং তার বাবার চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়।
মামলার আবেদনে বলা হয়, অনেক কষ্টে ১২ হাজার টাকা জোগাড় করে হাসপাতালে দেন আবু হুরায়রা। সেদিন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে তারা রোগীকে ছেড়ে দেয়।
এরপর আবু হুরায়রা তার বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিন্নাত আলী মারা যান।
আবু হুরায়রা লিখেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান চার ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে। তখন তারা চিকিৎসাপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তাকে মেরে ফেলার এবং চোর বানিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়।
আবেদনে বলা হয়, গত ২ মার্চ আবু হুরায়রা আবার সেখানে গেলে তাকে ‘চোর বানিয়ে’ পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা হয়। তবে পুলিশ আবু হুরায়রার অভিযোগের কপি দেখে তাকে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে আর্জিতে জানিয়েছেন আবু হুরায়রা।
এ বিষয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।