Published : 08 Nov 2025, 12:20 AM
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়েই মূলত ‘রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তার মতে, পঁচাত্তরের পর ‘জাতীয় অবয়ব’ গড়ে ওঠে এবং ‘কল্যাণমুখী’ সেই রাষ্ট্রের নির্মাণ শুরু হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিলে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
‘নভেম্বর থেকে জুলাই: বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শিরোনামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের নানা প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আসিফ।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর নানা অস্থিরতা, গুজব ও বিশৃংখলার কারণে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরাতে একটি সরকার গঠন করতে হয়েছিল।
ওই সময় ‘পুরনো’ রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর বাধার কারণে ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠন করা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো ‘এস্টাবলিশমেন্টের’ কোলে গিয়ে উঠে গেছেন। আমরা ২৫-২৬ বছরের কয়েক তরুণ চেষ্টা করেছিলাম তাদেরকে বাধা দিতে। কিন্তু যখন আমাদের অগ্রজরা এস্টাবলিশমেন্টকে গিয়ে দায়িত্ব দিয়ে আসেন, যে আপনারা একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন, তখন আমাদের হাতে আসলে খুব বেশি কিছু থাকে না।

“সেদিন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত করব বলেও চিন্তা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে সেদিন দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় ছাত্রনেতারা দ্রুত সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হন।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠিত শক্তিগুলো থেকে আমরা সেই ধরনের সহযোগিতা পাইনি যে শহীদ মিনারে গিয়ে সরকার গঠন করব।”
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘মিডল গ্রাউন্ড’ বিবেচনায় সেখানে সরকার গঠনের আলোচনার আয়োজন করতে। দর কষাকষির এক পর্যায়ে সেটা বঙ্গভবনে গিয়ে থামে।
“তবুও আপনারা দেখবেন যে অনেকটা বিপ্লবী কায়দায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আমরা অধ্যাপক ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে অনেক কিছুই আমাদের হাতে ছিল না, আমাদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, “স্বাধীনতার পর আমরা একটি রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থ হয়েছি। স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র গঠন করেছেন, তারা দুর্নীতি লুটপাট থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই, যা করেন নাই। এর ফলে ১৯৭৫ সালের সিপাহী জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
“১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়েই মূলত বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তখনই আমাদের জাতীয় অবয়ব দৃশ্যমান হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা শুরু করেছিলেন।”
আলোচনায় অংশ নিয়ে কবি ও লেখক ফরহাদ মজহার বলেন, “২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়েছে। সে সময়ে নেতৃত্বে থাকা তরুণেরা কতগুলো ভুল করেছে। সেই ভুল তরুণেরা এখনো চাইলে সংশোধন করতে পারে। তবে তার জন্য বেশি সময় নেই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের (পুসাব) স্থায়ী কমিটির সদস্য ফাহমিদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।