Published : 26 Dec 2024, 01:50 AM
চারপাশে উঁচু আবাসিক ভবনের মাঝখানে একটু ফাঁকা জায়গা। সেখানেই পাশাপাশি তিনটি কোর্টে ফ্লাডলাইটের আলোয় চলছে ব্যাডমিন্টন খেলা। অনেকে আবার পাশে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলেন সেই খেলা।
দিনভর শিশু-কিশোরদের খেলা, বয়স্কদের হাঁটাহাটি কিংবা গল্প করে সময় কাটানো আর নাগরিক জীবনে কলাবাগান এলাকাবাসীর নানা আয়োজনে সঙ্গী এই জায়গাটুকু। এই মাঠ রক্ষা করতে দুই বছর আগে এলকাবাসীর সঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা।
ঢাকার কলাবাগান এলাকার লেকসার্কাসে ‘তেঁতুলতলা মাঠ’ হিসেবে পরিচিত এই এক চিলতে জমি নিয়ে জটিলতা কাটেনি। অনেক ‘জলঘোলা’ হওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‘নিজের পরিচয়’ পায়নি তেঁতুলতলা মাঠ।
সর্বশেষ, এটি যে পুলিশের জমি, তা ‘মনে করিয়ে দিতে’ বসানো হয়েছে সাইনবোর্ড। আর তাতে মাঠটি আবার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মনে।
মাঠটি একবার পুলিশকে বরাদ্দ দেওয়ায় সরকারের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত’ ছাড়া সেটি পুনরায় বাতিল সম্ভব নয় বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।
প্রক্রিয়াটি ‘জটিল’ হলেও স্থানীয়দের চাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বছর দুয়েক আগে মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সরকারের এই উপদেষ্টা নিজেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
২০২২ সালে তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবিরের মত আরও অনেকে যুক্ত হয়েছিলেন। ফাইল ছবি
পেছনে ফেরা
সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বছরের পর বছর ধরে উন্মুক্ত থাকা এই মাঠটি ২০২২ সালের এপ্রিলে নিজেদের দাবি করে সেখানে কলাবাগান থানা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানায় পুলিশ। সে অনুযায়ী ওই বছরের ২৪ এপ্রিল পুলিশ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দা, সংস্কৃতি কর্মী সৈয়দা রত্না তার তরুণ ছেলে প্রিয়াংসুকে নিয়ে সেখানে গিয়ে ফেইসবুক লাইভ শুরু করেন।
এর জেরে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে ১৩ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের। পর দুই পক্ষের ‘অনড় অবস্থানের’ কারণে হস্তক্ষেপ করেন সরকারপ্রধান।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সম্মতিতে’ ২৮ এপ্রিল মাঠটিকে ‘মাঠ’ হিসেবেই উন্মুক্ত রাখার কথা জানান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তবে কারও মালিকানাধীন অবস্থা থেকে মুক্ত করে ‘স্থায়ীভাবে’ মাঠ হিসেবে বন্দোবস্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।
প্রথম প্রতিবাদের পরপরই পুলিশ আটক করেছিল সৈয়দা রত্না ও তার ছেলে ঈসা আব্দুল্লাহ প্রিয়াংসুকে। প্রতিবাদের মুখে ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সুরাহা হয়নি। এর মধ্যে গত ৫ অগাস্ট তীব্র গণআন্দোলনের মুখে পতন হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের।
বদলে যাওয়া পরিস্থিতি
তেঁতুলতলা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নতুন করে দাবি উত্থাপন করেছেন এলাকাবাসী। মাঠ রক্ষার লড়াইয়ে পুলিশের হাতে সন্তানসহ ‘হেনস্থার’ শিকার সৈয়দা রত্না যোগাযোগ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পরামর্শে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সঙ্গে দেখা করেন রত্না। মাঠটি যে পুলিশের সম্পত্তি, তার দলিলাদি ডিএমপি কমিশনারের কাছে দেখতে চান, যাতে বিষয়টির আইনিভাবে স্থায়ী সুরাহা করা যায়।
ডিএমপি কমিশনার ‘দুই দিন’ সময় চাইলেও দলিলাদি সরবরাহ করেননি, বরং গত ৬ ডিসেম্বর মাঠটিতে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মালিকানাধীন সম্পত্তি’ লেখা সাইবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়। সাইনবোর্ডে ‘সকলের জন্য উন্মুক্ত’ বলা হলেও ‘হুট করে’ এমন সাইনবোর্ডে ভয় ঢুকেছে স্থানীয়দের মনে। তাদের আশঙ্কা, এখনই সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে আবারও এ নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা থেকে যাবে।
গত ১৩ ডিসেম্বর তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেদিনই এলাকাবাসী সাইনবোর্ডে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের’ মালিকানাধীন সম্পত্তি লেখাটি মুছে দিয়ে ‘জনগণের’ মালিকানাধীন সম্পত্তি লিখে দিয়েছে।
পুলিশের সাইনবোর্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সৈয়দা রত্না বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশ হুট করে কেন আবার সাইনবোর্ড দেবে? এটা পুলিশের জমি আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে কেন? তার মানে তারা একরকম হুমকি দিচ্ছে, যে কোনো সময় তারা আবার আসবে।”
এলাকাবাসী সাইনবোর্ডে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের’ মালিকানাধীন সম্পত্তি লেখাটি মুছে দিয়ে ‘জনগণের’ মালিকানাধীন সম্পত্তি লিখে দিয়েছে।
রত্না বলেন, “আমি মাঠটি পাকাপাকিভাবে চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়ে, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে মনে হচ্ছে আরও বিপদ ডেকে আনলাম। আগের সেই জটিলতাই যদি আবারও এসে উপস্থিত হয়, তাহলে তো আমি ভুলই করলাম বলতে হবে।”
মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়ে মায়ের সঙ্গে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়া ঈসা আব্দুল্লাহ প্রিয়াংসু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি বলেন, “আমাদের সাথে তখন যা হয়েছিল ঠিক হয় নাই। তারপরেও এখনও মাঠটা যে পুলিশের আন্ডারে রয়েছে এটা নিয়ে একটু আফসোস আছে। এই মাঠটা যদি উন্মুক্ত হয়ে যায় বাচ্চাদের খেলার জন্য, তখন ঢাকাসহ সারাদেশে এমন যে জায়গাগুলা আছে, সেগুলাও উন্মুক্ত হয়ে যাবে। একটা চেইঞ্জ বিভিন্ন চেইঞ্জের পেছনে হেল্প করে।”
মাঠে নতুন করে সাইনবোর্ড বসানোর ব্যাখ্যায় ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম দাবি করেছেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি এড়াতেই’ এ ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, “ভালোর জন্য দেওয়া হয়েছে, অনেকে নেগেটিভলি নিতে পারে। কিন্তু এটা দেওয়ার উদ্দেশ্য, জায়গাটা আমাদের জন্য বরাদ্দ করা, আমাদের কিনে নেওয়া জায়গা কিন্তু আমরা ক্লেইম করছি না। সবাই ব্যবহার করুক। সবাইকে জানান দেওয়া যে, এটা আমরা ব্যবহার করছি না, থানাও করছি না।”
ভবিষ্যতে এখানে থানা ভবন নির্মাণ বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতেরটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।”
রত্নার ছোটাছুটি
সংস্কৃতি কর্মী সৈয়দা রত্না বলেন, “মাঠটি স্থায়ীভাবে মাঠ হিসেবেই রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম মাঠটির নামজারিসহ কোথায় কোন ধরণের ঘাটতি আছে। আমরা দাবি জানিয়েছি এটিকে একেবারে মাঠ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।”
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ফোন করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন এক সরকার আছে, আবার আরেক সরকার আসবে। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান না হলে আবার নতুন করে ঝামেলা শুরু হবে। যেভাবে অন্যান্য মাঠ থাকে, এটাও যেন সেভাবেই থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলাম। পরে তিনি ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে বললেন।”
রত্না বলেন, “সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বললেন, ‘আপনারা মাঠটি ব্যবহার করেন’। আমি বললাম, এটার স্থায়ী সমাধান চাই। এখন আপনারা আছেন, কয়দিন পর থাকবেন না। তখন তিনি বললেন, ‘কী করতে পারি?’ আমি তখন জানতে চাই- এটা কীভাবে পুলিশের জমি হল? সকল ধরনের কাগজপত্র আমরা চাই, তাহলে আমাদের পরের করণীয় নির্ধারণ করতে পারব।
“তখন তিনি বললেন, তিনি নতুন এসেছেন, দুইদিন পর যেন ফোন করি। দুদিন পর ফোন করে জানলাম কোনো কাগজপত্র রেডি করতে পারেননি তারা। এর মধ্যেই নতুন করে পুলিশ আবার সাইনবোর্ড টানিয়ে দিল। ডিএমপি কমিশনার বললেন, তিনি এখনও এতকিছু জানেন না, ভালো কথা। সাইনবোর্ড লাগিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিন দিনে অনেক কিছু জেনে গেছেন।”
রত্না বলেন, “পুলিশ এখানে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এটাতে আমরা ছাড় দেব না।”
মাঠটি যেভাবে এল
লেকসার্কাস এলাকার বাসিন্দা লেখক ও সাংবাদিক প্রিসিলা রাজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ষাটের দশকে পুলিশের বেশকিছু লোকজন একসাথে হয়ে প্লট কিনেছিলেন ওই এলাকায়। সেটা আমাদের জন্মেরও আগের ঘটনা। আমি প্রবীণদের কাছ থেকে জেনেছি পুলিশের ওই লোকজন বেশ বড় একটা জায়গা কিনে প্লট ভাগ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন একজন বিহারী ইঞ্জিনিয়ারকে। সেই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তারা টাকা না দিয়ে মাঠের ওই প্লটটুকু দিয়েছিলেন তাকে। বিহারী ভদ্রলোকের নামেই জমিটা ছিল। ষাটের দশকের কোনো সময় তিনি চাকরি নিয়ে চলে যান সৌদি আরবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর আর ফিরে আসেননি।”
জনস্বার্থে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে হবে বলে মনে করেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সভাপতি মো. আব্দুস সোবহান।
এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা জায়গাটি স্থানীয়রা মাঠ হিসেবেই ব্যবহার করে আসছিলেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপের নকশাতেও এটিকে মাঠ হিসেবেই দেখানো হয়েছে বলে জানান প্রিসিলা।
বিষয়টি নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিবও নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা ড্যাপের নকশায় এটিকে মাঠ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলাম, সেটির বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এখন আইনগতভাবেই এখানে অন্য কোনো স্থাপনা করার সুযোগ নেই।”
তবে জমিটির কোনো দলিল প্রমাণাদি কখনও দেখানো হয়নি জানিয়ে সৈয়দা রত্না বলেন, “পুলিশ যে মালিকানা পেয়েছে তেমন কোনো কাজগপত্রও আমাদের দেখানো হয়নি। তবে জায়গাটি পুলিশের নামে বরাদ্দের আগে ২০২০ সালে একটা সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল ‘জায়গাটি থানা ভবনের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।’ কারও কোনো আপত্তি থাকলে যেন নির্ধারিত তারিখে জানানো হয়। কিন্তু রসিকতাটা হচ্ছে, আপত্তি জানানোর জন্য যে তারিখ দেওয়া হয়েছিল, সেই তারিখের পরে এটি টানানো হয়েছিল, যাতে কেউ আপত্তি জানাতে না পারে।”
প্রিসিলা রাজ বলেন, “পুলিশের কাছে সব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল। কাগজপত্র পেলে পাকাপাকিভাবে মাঠ হিসেবে পাওয়ার উদ্যোগটা নেওয়া যেত। জানা যেত জমিটার বর্তমান স্ট্যাটাসটা কী, খারিজ হয়েছিল কি না, বা কার নামে খারিজ হয়েছে। পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল কি না। পুলিশ জায়গাটা কীভাবে পেল?”
তেঁতুলতলা ‘পাকাপাকিভাবে’ পেতে করণীয় কী?
তেঁতুলতলাকে পুলিশের সম্পত্তি হিসেবে বহাল রাখার সুযোগ দিয়ে ‘ভবিষ্যতের জন্য আর কোনো ঝুঁকি’ রাখতে চান না শুরু থেকেই এই ‘মাঠ আন্দোলনের’ নেতৃত্ব দেওয়া উদীচীর কর্মী সৈয়দা রত্না।
তিনি বলেন, “এই মাঠ রক্ষা আন্দোলনে শুরু থেকেই আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন রিজওয়ানা আপা (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান)। সেজন্য আমাদের বড় একটা আশা মাঠটি পাকাপাকিভাবে ফেরত পাওয়ার। আপার পরামর্শ অনুযায়ীই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছি। ”
পুলিশের বরাদ্দ বাতিল করে তেঁতুলতলাকে মাঠ হিসেবে বরাদ্দ দেয়ায় কিছুটা জটিলতা দেখছেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম।
জায়গাটি ‘অধিগ্রহণসূত্রে’ পুলিশের দাবি করে ঢাকা মহানগর পুলিশের এস্টেট বিভাগের উপ কমিশনার তাহমিনা তাকিয়া বলেছেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ২০১৯ সালে ‘কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি’র মাধ্যমে জমিটি পুলিশকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
“জায়গাটি যদিও থানার নামে বরাদ্দ আছে, কিন্তু সেখানে তো আমরা কোনো কিছু করছি না। সকলের জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে, ওখানে কোনো স্থাপনা করিনি।”
পুলিশের নামে দেওয়া ‘বরাদ্দ’ বাতিল করতে চাইলে সেটির প্রক্রিয়া কী হবে, জানতে চাইলে এ বিষয়ে তার কিছু ‘জানা নেই’ বলেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
তবে ‘সরকার চাইলেই পুলিশের বরাদ্দ বাতিল করে মাঠের নামে বরাদ্দ দিতে পারে’ বলে মনে করেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সভাপতি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান।
তিনি বলেন, “বুড়িগঙ্গার মধ্যে র্যাবের একটা অ্যালটমেন্ট ছিল, সেটা তো বাতিল করা হয়েছে। আপনাকে বুঝতে হবে জনস্বার্থে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা শহরে পার্ক তথা ওপেন স্পেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠদের হাঁটাচলার জন্য প্রয়োজন রয়েছে। এটি জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
“পুলিশের জন্য বরাদ্দ দরকার নেই আমরা তো সেটি বলছি না, সরকার চাইলে অন্য যেকোনো জায়গায় বরাদ্দ দিতে পারে। তাদেরকে পার্কে বা মাঠেই বরাদ্দ দিতে হবে কেন? আমাদেরকে এই ধরনের প্রবণতা পরিহার করতে হবে।”
পুলিশ মাঠটি সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করতে পারে বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তবে প্রক্রিয়াটিকে ‘একটু জটিল’ মনে করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফের ডটকমকে তিনি বলেন, “এটা সরকারের টপ লেভেলের সিদ্ধান্তের বিষয়। আগে যখন পুলিশকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ঘুরে সিদ্ধান্ত এসেছিল। এখন বাতিল করতে হলেও প্রধান উপদেষ্টা হয়ে আসতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্তের পর এ বরাদ্দ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “মালিকানাটা কোনো না কোনো সরকারি সংস্থারই তো থাকবে। মাঠের ব্যবহার করবে জনগণ। মাঠ তো জনগণকে দিয়ে দেবে না, বা এমন কোনো দৃষ্টান্তও নেই।”
ধানমন্ডি চার নম্বর রোডের মাঠটির মালিকানা পিডাব্লিউডির, কিন্তু সর্বসাধারণের খেলার জন্য উন্মুক্ত। সেই উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “এখন কথা হচ্ছে খেলার মাঠ হিসেবে তেঁতুলতলা থাকবে কি থাকবে না? সেই জবাবটা দিতে হবে সিটি করপোরেশনকে, ডিএমপিকে। আমি মনে করি মালিকানার বিষয়টা এজন্য প্রয়োজন, পুলিশ তো মাঠ ব্যবস্থাপনা করে না কখনও। পুলিশ এটি হস্তান্তর করতে পারে সিটি করপোরেশনকে।”