Published : 06 Dec 2025, 09:22 PM
দেশে কার্টুনিস্ট, মিমারদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয় মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, এ ধরনের ‘চর্চা’ বন্ধ করতে হবে।
তার মতে, গণতান্ত্রিক চর্চার ‘বড়’ উপাদান হল অন্যদের কথা শোনা।
শনিবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় সারা হোসেন বক্তব্য রাখছিলেন বলে স্যাটায়ারধর্মী ফেইসবুক পেইজ ‘ইয়ার্কি’ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
গেল ২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বেশ কয়েকটি মিম, স্যাটায়ার এবং কার্টুন পেইজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এই প্রেক্ষাপটে মিম, স্যাটায়ার, হিউমার, কার্টুন ও মর্যাদাহানির মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য বোঝার লক্ষ্য ধরে নাগরিক কোয়ালিশন ও ইয়ার্কি যৌথভাবে স্যাটায়ারিস্ট, মিমার, রাজনীতিবিদ, কার্টুনিস্ট, হিউমারিস্ট, সাংবাদিক, আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্টদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় অবিলম্বে সেসব মামলা প্রত্যাহারের দাবির পাশাপাশি কনটেন্ট নির্মাতা, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান তারা জানান।
বাকস্বাধীনতা রক্ষায় শক্ত অবস্থান ও কার্যকর পদক্ষেপ যেন সব সময় বজায় থাকে, সেই আহ্বানও জানানো হয়।
‘স্যাটায়ার, মিম ও কার্টুন-মতপ্রকাশ নাকি মর্যাদাহানি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় অধিকারকর্মী সারা হোসেন বলেন, “একটা মানুষ কার্টুন আঁকলে, মিম বানালে তার নামে মামলা দেওয়া ও জেলে পাঠানোর ‘প্র্যাক্টিস’ থেকে আমাদের বের হতে হবে। শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র সম্ভব হয় না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মানুষের মতামতকে সম্মান করতে হয়।”
তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক চর্চার সবচেয়ে বড় উপাদান হল, অন্যদের কথা শোনা। তর্ক-বিতর্কে জড়ানো। তাদের কথাও শোনা, যাদের কথা আপনার সহ্য হয় না, নিজের ওই সহনশীলতা চর্চা করা।”
সারা হোসেন আরো বলেন, “মিম কার্টুনের গুরুত্ব হচ্ছে, যাদের সাথে সমান ক্ষমতার জায়গায় আপনি নাই, তাদেরকে আপনি প্রতিরোধ করতে পারছেন, তাদেরকে প্রশ্ন করতে পারছেন। সেজন্য সমাজে মিম ও কার্টুনের একটা স্পেস থাকা দরকার। কিন্তু তার মধ্যে সম্প্রতি এই মামলাটা দিয়ে এইগুলোকে সংকীর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের মতে, একটা সমাজে পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করতে পারে। ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হয়।
“তবে দুঃখজনক, আমরা এই সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে আছি। বর্তমানে যারা সব থেকে ক্ষমতাবান রয়েছেন, তাদের আরও উদার হওয়া উচিৎ।”
কার্টুনিস্ট মেহেদী হক বলেন, হিউমার এবং স্যাটায়ার বোঝার ক্ষেত্রে বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম অনেক বুদ্ধিমান। বর্তমানের কার্টুনিস্টরাও ভালো কাজ করছেন। কিন্তু স্যাটায়ার করায় পেইজগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়াটা ঠিক হয়নি।
লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “যে মামলাটা হয়েছে এই মামলাগুলোর মাধ্যমে স্যাটায়ার, নারী নিপীড়ন ও হেনস্থাকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। এবং স্যাটায়ারকে হেনস্থার সাথে তুলনা করে আবারও পুরোনো রেজিমের মতো যেকোনো বিরোধীতাকে মুখ বন্ধ করার একটা বন্দোবস্ত তৈরি করা হচ্ছে।”
মতবিনময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, শিক্ষাবিদ ও লেখক সুমন রহমান, মিম গবেষক সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ, রাজনীতিক সৈয়দ হাসিবুদ্দীন হোসেন, সংগঠক প্রাপ্তি তাপসী ও স্যাটায়ারিস্ট সিমু নাসের।