গুলশানে অভিযানের সময় ‘স্পা সেন্টার’ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু

দুই তরুণীকে আহত অবস্থায় হাসপাতপালে নিয়ে আসে পুলিশ, তাদের মধ্যে একজনের মারা যাওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2023, 11:48 AM
Updated : 11 Jan 2023, 11:48 AM

আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণে উত্তর সিটি করপোরেশনের অভিযানকালে ঢাকার গুলশানে বহুতল ভবন থেকে ‘নিচে পড়ে’ এক তরুণী নিহত এবং আরেক নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে গুলশান ২ এর ৪৭ নম্বর সড়কের ওই বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), যেখানে একটি স্পা সেন্টার ছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

নিহত ১৯ বছর বয়সী তরুণীর নাম ফারজানা আক্তার। তার গ্রামের বাড়ি খুলনায়। তিনি স্বামীসহ ঢাকার খিলক্ষেত বটতলা এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযানকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে 'স্পা সেন্টারের দুই কর্মীর লাফ দেওয়ার' কথা জানান ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা পিয়াল হাছান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

"এরই অংশ হিসেবে ওই ভবনে স্পা সেন্টার আছে জানতে পেরে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালাতে যায়।"

বিকাল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আলমগীর দুই তরুণীকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগে তাদের পরীক্ষার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

গুরুতর অবস্থায় আরেক তরুণীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বাম হাত ভেঙে গেছে।

এসআই আলমগীর হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, একজন হাকিমের নেতৃত্বে ডিএনসিসির অভিযান চলছিল। অভিযানকালে আর্মড পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন। এসময় কয়েকজন ‘লাফিয়ে পড়েন’ বলে থানা পুলিশকে জানানো হয়।

পরে দুজনকে নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। সেখানে চিকিৎসকেরা একজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিন এ এসআই।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আবাসিক এলাকায় স্থাপিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় একজন নিহত হয়েছেন বলে শুনেছেন।

নিহত তরুণীর স্বামী জাহিদ হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী গুলশানে চাকরি করতেন। আর তিনি একটি মুদি দোকানে কাজ করেন।

অভিযানের সময় ভয় পেয়ে তারা ‘লাফিয়ে পড়ে’ বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক