১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পল্লবী থানায় জনি হত্যা: ‘এখনও’ হুমকি পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের

“নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়নি। এ আইন সংশোধনের দাবি জানাই।”

পল্লবী থানায় জনি হত্যা: ‘এখনও’ হুমকি পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের
ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলার রায়ের পর সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার স্বজনরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2025, 08:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:33 PM

রাজধানীর পল্লবীতে থানা হেফাজতে নির্যাতনে ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন জনির পরিবারের সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি।

এগারো বছর আগে পল্লবী থানায় পুলিশের নির্যাতনে মারা যান ইশতিয়াক হোসেন জনি। ওই ঘটনায় বিচারিক আদালত তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন এবং পুলিশের দুই সোর্সকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। 

এ রায়ের আপিলে হাই কোর্ট দুই পুলিশের দণ্ড বহাল রাখে; একজনের দণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় এবং এক সোর্সকে খালাস দেয়। আরেক সোর্স ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করে মুক্ত হয়েছেন। 

সোমবার বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও এ কে এম রবিউল হাসানের বেঞ্চ আপিলের রায় ঘোষণা করে। 

রায়ের পর জনির মেয়ে রিতিকা আক্তার সাংবাদিকদের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এখনও হুমকি-ধামকি পাচ্ছি। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।”

জনির মা খুরশিদা বেগম বলেন, “ছেলেকে হারিয়েছি। আর তো ফিরে পাব না।” 

এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন; আর কথা বলতে পারেননি। 

নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি বলেন, “রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। হাই কোর্ট একজনকে খালাস দিয়েছেন। আবার একজনের সাজা কমিয়ে দিয়েছেন। অথচ এখনও আমি হুমকি পাচ্ছি। 

“নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন-২০১৩ এ ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়নি। আমি এ আইন সংশোধনের দাবি জানাই।”

কার কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “রাসেলের কাছ থেকে।”

রাসেল হলেন পুলিশের ‘সোর্স’, যিনি বিচারিক আদালতে সাত বছর দণ্ডিত হয়েছিলেন; তবে হাই কোর্টে খালাস পেয়েছেন। 

ইশতিয়াক হোসেন জনি।

ইশতিয়াক হোসেন জনি।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. বিল্লালের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। সে অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্স সুমন নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।

এ সময় সেখানে থাকা ইশতিয়াক হোসেন জনি ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকির সঙ্গে পুলিশের সুমনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমনের ফোনে পুলিশ এসে ইশতিয়াক ও ইমতিয়াজকে ধরে নিয়ে যায় এবং থানায় নিয়ে দুই ভাইকে নির্যাতন করে।

এতে ইশতিয়াকের অবস্থা খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত ইশতিয়াকের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন একই বছরের ৭ অগাস্ট মামলা করেন।

ওই মামলায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রায় দেন। রায়ে পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাশেদুল হাসান ও এএসআই মো. কামরুজ্জামান মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

অপর দুই আসামি পুলিশের সোর্স সুমন ও রাসেলের সাত বছর কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয় বিচারিক আদালত। 

এদের মধ্যে কামারুজ্জামান মিন্টু শুরু থেকে পলাতক। অপর আসামি সুমন সাজাভোগ করে বেরিয়ে গেছেন।

এ রায়ের আপিলে হাই কোর্ট এসআই জাহিদুর রহমান ও এএসআই কামরুজ্জামানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয়। আরেক এএসআই রাশেদুল হাসানের যাবজ্জীবন কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। খালাস দেওয়া হয় রাসেলকে।

আরও পড়ুন

পল্লবী থানায় জনি হত্যা: দুই পুলিশের যাবজ্জীবন বহাল

পল্লবী থানায় পিটিয়ে হত্যার মামলায় তিন পুলিশের যাবজ্জীবন

জনি হত্যা: জামিন মেলেনি এসআই জাহিদের