Published : 03 May 2026, 11:22 PM
হাম আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় টিকা মজুদ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে অন্তত ১০ ধরনের টিকার বড় চালান শিগগির আসছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-ইপিআই কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার একটি কার্গো ফ্লাইটে এসব টিকা আসার সম্ভবনার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মে মাসের ৫ তারিখে প্রথম ফ্লাইট আসবে হয়তো। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে টিকা আসতে থাকবে। টিকার প্রথম চালান গ্রহণ করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।”
এর মধ্যে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি এই ছয় ধরনের টিকার মজুদ প্রায় শূন্য বলে জানিয়েছেন সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা।
হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির জন্য টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছিল। তবে হাম-রুবেলা নিয়মিত টিকায় টান পড়েছে।
১২ ধরনের রোগের জন্য নয়টি টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের সাতটি টিকা দেওয়া হয় নিয়মিত কর্মসূচির আওতায়। এটি সারা বছর ধরে চলে। শিশুরা কোন বয়সে কোন টিকা পাবে, তা নির্দিষ্ট করা আছে।
এসব টিকা হল- যক্ষ্মা প্রতিরোধে বিসিজি, পোলিও প্রতিরোধে ওপিভি, পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেওয়া হয় হেপাটাইটিস বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ পাঁচ রোগ প্রতিরোধে, ধনুষ্টঙ্কার ও ডিফথেরিয়া প্রতিরোধে টিডি, হামের জন্য এমআর, নিউমোনিয়া প্রতিরোধে পিসিভি ও টিসিভি দেওয়ার হয় টাইফয়েড প্রতিরোধে।
আর দুটি টিকা দেওয়া হয় নারীদের। কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হয় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে আর প্রজননক্ষম নারীদের ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় আরেকটি টিকা।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধেও টিকা চালু আছে দেশে।

এছাড়া টিকার জাতীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর আওতায় কয়েকদিনের মধ্যে দেশের নির্দিষ্ট বয়সের সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।
কী পরিমাণ বা কত ধরনের টিকা আসবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, “টিকার পরিমাণ এখনো নিশ্চিত বলতে পারছি না। তবে ১০ ধরনের টিকার অর্ডার আমরা করেছি। সবগুলো ধারাবাহিকভাবে আসবে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপিআইয়ের একজন কর্মকতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরড ডটকমকে বলেন, “টিকা আসার সঠিক তারিখ এখনো জানি না। তবে প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের টিকার বড় সংখ্যার চালান দেশে আসবে।”
এর আগে ২৯ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, টিকা কেনার জন্য নতুন করে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
টিকার মজুদ ও চাহিদা
ইপিআই কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি ছয় ধরনের টিকার মজুদ শূন্য হয়েছে। হাম-রুবেলার টিকা বা এমআর টিকা ‘ক্যাম্পেইনে’ পাঠানোর পর স্বাভাবিক চাহিদার জন্য কিছু মজুদ রয়েছে।
১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া টিকার মাসিক মজুদের হিসাব অনুযায়ী-
>> বিসিজি টিকার চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার ডোজ। মজুদ আছে ৭ লাখ ২৬ হাজার।
>> ওপিভির চাহিদা ১ লাখ ২৫ হাজার ডোজ, মজুদ ৮ হাজার ২০০।
>> টিডির চাহিদা ১ লাখ ৫ হাজারের বিপরীতে মজুদ ৯৫ হাজার ৬৭০ ডোজ।
>> পেন্টাভ্যালেন্টের চাহিদা ১০ লাখ চাহিদার বিপরীতে মজুদ শূন্য।
>> পিসিভির চাহিদা ২ লাখ ৬০ হাজার ডোজ, মজুদ শূন্য।
ইপিআইয়ের হিসাব অনুসারে ও পরিসংখ্যান বিবেচনায় কেন্দ্রীয়ভাবে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি এই ছয় ধরনের টিকার মজুদ শূন্য। কেন্দ্রীয় মজুদ শূন্য হলেও মাঠ পর্যায়ে আরও কিছু দিন চলার মতো টিকা আছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের।