১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান

নতুন করে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করার আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারির ‘সম্ভাবনা নেই’ বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Oct 2025, 05:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে খালি থাকা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদে আবারও সহকারী শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

নতুন করে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করার আগে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারির ‘সম্ভাবনা নেই’ বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রভাষক পদে নিয়োগে 'বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি' জারির দাবি জানিয়ে আসছেন।  

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম সোমবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির শূন্য থাকা পদগুলোতে নিয়োগে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে একটা আলোচনা আছে। তবে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। 

"নতুন করে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করার আগে আবার গণবিজ্ঞপ্তি জারির সম্ভাবনা নেই। আমারা প্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তখন বলা যাবে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে কিনা।" 

গত ১৬ জুন জারি করা ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য থাকা ১ লাখ ৮২২টি শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছিল এনটিআরসিএ। ১০ জুলাই পর্যন্ত চলে আবেদন প্রক্রিয়া।

গত ১৯ অগাস্ট ৪১ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করে গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করা হয়। ৫৯ হাজার ১৯৫টি শিক্ষক-প্রভাষক পদ খালি থেকে যায়। 

গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক পদে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল।

৩৬ হাজার ৩৪৩ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিলেও ৫ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা দাড়ায় ৬৪ হাজার ৪৭৯টিতে। 

এর বাইরে অবসর, মৃত্যু ও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ফলে প্রতিনিয়ত সহকারী শিক্ষক ও প্রভাষক পদ শূন্য হচ্ছে। 

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের ভাষ্য, নতুন করে শূন্য হওয়া পদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে আবারও এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ সুপারিশ না পাওয়া ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থী তাদের শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে 'বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির দাবি জানিয়ে আসছেন। 

এ দাবিতে গত ১২ অক্টোবর দিনভর রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ চালানোর পর গত ১৩ অক্টোবর এনটিআরসিএ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত প্রার্থীরা। 

তারা ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির খালি থাকা পদগুলোর সঙ্গে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব সহকারী শিক্ষক ও প্রভাষক পদ খালি হবে, তা অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। গত ১৩ অক্টোবর এনটিআরসিএ দাবি ‘মেনে নিয়েছে’ বলে দাবি করেছিলেন তারা।  

আন্দোলনকারীদের নেতা খোরশেদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মাসুদ স্যারের মধ্যস্ততায় আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা চাই এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত শূন্য পদ সংগ্রহ করে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্য পদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ সুপারিশ বঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩জন প্রার্থীর নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করে সেগুলো পূরণে ‘গণবিজ্ঞপ্তি’ জারি করে থাকে এনটিআরসিএ। শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করতে ই-রেজিস্ট্রেশন, তথ্য সংগ্রহ, সংশোধন ও যাচাই বাছাই করতে কয়েক মাস সময় লাগে এনটিআরসিএর।

বর্তমানে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সনদের মেয়াদ ৩ বছর। সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়সী প্রার্থী এক হাজার টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। ওই আবেদনে একজন প্রার্থী নিজ বিষয়ে ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে পারেন।