Published : 01 Oct 2025, 05:01 PM
টানা চার দিনের সরকারি ছুটি পেয়ে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন নগরবাসী, যা পরের দিনও অব্যাহত ছিল।
কিন্তু সড়কে বাড়তি যানবাহন, ভারি বৃষ্টি আর মাঝপথে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার মতো নানা কারণে বিভিন্ন মহাসড়কে যানজটে ভুগতে হয় যাত্রীদের।
এদিকে পূজার ছুটিতে অনেকে বাড়ির পথ ধরায় বুধবার ঢাকায় ভিড় ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। তবে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে টানা ছয় ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলজটের কারণে ভুগতে হয়েছে নগরবাসীকে।
বৃহস্পতিবার দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি। এর আগে বুধবার নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়েছে সরকার। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চারদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।
চার দিনের এই ছুটি কাটাতে মঙ্গলবার দুপরের পর থেকে ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা ছাড়েন যাত্রীরা। বুধবারও অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন।
ঢাকার মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জসহ ময়মনসিংহ বিভাগ এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের বাস ছাড়ে।
বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড়।
ময়মনসিংহ রুটের ইউনাইটেড পরিবহনের কাউন্টারের সামনে টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা।
সোহেল রানা নামে এক যাত্রী বলেন, “লম্বা ছুটি পাইছি। ভাবলাম ফ্যামিলির লোকজনকে নিয়া বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। কাল বিকালে ভিড় বেশি ছিল। তাই আজ যাচ্ছি।”
ইউনাইটেড পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাউসার আহমেদ নামে এক যাত্রী।
তিনি বলেন, “ঘণ্টাখানেক হলো দাঁড়িয়ে আছি, বাস নাই। কাউন্টার থেকে জানাইছে, একটা বাস নাকি ভোগড়া ছাড়াইছে। ওই বাসের জন্য অপেক্ষায় আছি।”
যাত্রীদের ভিড় কেমন জানতে চাইলে জামালপুর রুটের রাজিব পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পূজার ছুটিতে মানুষ বাড়ি যাচ্ছে, এ কারণে কিছুটা ভিড় ছিল গতকাল (মঙ্গলবার)। আজ তেমন ভিড় নেই।”
কিশোরগঞ্জ রুটের উজানভাটি পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঈদের সময় যেমন ভিড় হয়, পূজায় তেমন ভিড় হয় না। তবে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে অন্য সময়ের চেয়ে।”

পথে পথে যানজট
মঙ্গলবার বিকাল থেকে মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করার পর বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয় যানজট।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে চিটাগাং রোড, কাঁচপুর হয়ে সোনারগাঁও পর্যন্ত যানজট ছিল।
মঙ্গলবার রাতে ভারি বৃষ্টি এবং মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ের দড়িকান্দি এলাকায় একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যানজট লাগে।
সড়কের যানজটের হালনাগাদ তথ্য জানানোর ফেসবুক গ্রুপ ট্রাফিক এলার্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিয়ে নানা পোস্ট দেন যাত্রীরা।
সাইমুন নূর নামে একজন লেখেন, “সকাল ৯টায় ওয়ারি থেকে রওনা হলাম। এখন বাজে দুইটা ১৯ মিনিট, মাত্র কাঁচপুর। সায়েদাবাদ থেকে কাচপুর পর্যন্ত আসতে লেগেছে আড়াই ঘণ্টা।”
মাহমুদুল হাসান খান নামে আরেক যাত্রী বলেন, “গত রাত ২টায় আরামবাগ থেকে বাসে উঠেছি। আজ দুপুর সোয়া দুইটায় মাত্র সাতকানিয়া আসলাম।”
কুমিল্লার সাংবাদিক গাজীউল হক সোহাগ বুধবার সকালে লেখেন, একটা জরুরি কাজে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছিলেন। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে রাত দেড়টায় ঢাকা থেকে বাসে ওঠেন তিনি। ভোর ৫টায় তিনি যেতে পারেন মুন্সিগঞ্জের ভবেরচর পর্যন্ত।

“আহা কি কষ্টের সময়, ভরেরচরে যানজটের কারণে এক জায়গায় বসে আছি রাত ৩টা থেকে ভোর পাঁচটা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা লোকাল বাস। পাখা নেই। জানালাও বন্ধ। সিট নড়বড়ে। ভ্যাপসা গরম। মশা কামড়াচ্ছে। পাশে নাক ডাকা শব্দ। মুঠোফোনে রিলসের শব্দ আসছে। আমি কখন কুমিল্লা যাব?”
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদির জিলানী বুধবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুর পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল।
“পূজার ছুটির কারণে রাস্তায় গাড়ির প্রচুর চাপ, বাম্পার টু বাম্পার। গাড়ি খালি বাড়েই, কমেতেছে না। কাল রাতে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া একটা গাড়ি নষ্ট হইছিল ভোর রাতে, তার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।”
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাচপুর থেকে বরপা এবং ঢাকা বাইপাস সড়কের মদনপুর, মীরেরটেক বস্তল এলাকাতে বুধবার দুপুরেও যানজট ছিল।