Published : 20 Jul 2026, 01:58 PM
বর্তমান সরকারের মেয়াদে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এনডিপি আয়োজিত ‘ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন টুকু।
সৌরবিদ্যুৎ খাতে এনজিও এগিয়ে এলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার কমবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা পরিকল্পনা করছি, আমাদের মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট করব। ১০ হাজার মেগাওয়াট করলে আমার আমদানিনির্ভর এনার্জির প্রয়োজন কমবে এবং যে উদ্বৃত্ত টাকাটা হবে, সেটা আমরা অন্য উন্নয়ন খাতে ব্যবহার করতে পারব।”
বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বর্তমানে ৭৯৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
গ্রামের বাড়ির ছাদে গুচ্ছভিত্তিক সৌরপ্যানেল স্থাপন, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি, সৌরচালিত সেচ ও বায়োগ্যাস প্রকল্পকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা সম্ভব বলে মনে করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে এনজিওর বড় ভূমিকা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এনজিওগুলো গুচ্ছভিত্তিকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের অর্থও ফিরে আসবে।
“বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলাদেশে আপনারা যদি গ্রামের চালের উপর সোলার দেন এবং মাস শেষে নেট মিটার দিয়ে পয়সা আদায় করে নিতে পারেন, তাহলে গ্রামের কভারেজটা বেড়ে যাবে।”
এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের সংকট হবে না মন্তব্য করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিশ্ব ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।
নাগরিকরা কোন কোন বাস্তবতায় নিজ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকেন তা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এক ইজিবাইকচালকের উদাহরণ টানেন।

টুকু বলেন, “ওই ব্যক্তি একটি ছোট সৌর প্যানেল ও পুরনো দুটি ব্যাটারি ব্যবহার করে দিনে একটি চার্জ দিয়ে অন্যটি দিয়ে ইজিবাইক চালান। আমাদের মানুষের মধ্যে চিন্তা আছে।”
কৃষি সেচের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “যেভাবে গভীর নলকূপের মালিকরা কৃষকদের কাছে সেচের পানি বিক্রি করেন, একইভাবে সৌরচালিত সেচপাম্পও লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।”
সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্পেরও সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি ফরিদপুরের এক নারীর উদাহরণ দেন।
টুকু বলেন, ওই নারী গবাদিপশুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে নিজের পাশাপাশি আশপাশের বাড়িতেও রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছেন।
জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির কারণে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে চাপ পড়ে থাকে, সেই বাস্তবতা সামনে এনে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাসে পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিতে ২০০ কোটি ডলার বা দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।
“এটা যেকোনো দেশের রিজার্ভের ওপর বিরাট চাপ।”
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এ কারণেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
দেশে গ্যাসের চাপ রোজ কমছে, আর চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়ছে।
“আমরা সাবসিডি দিচ্ছি। হাজার হাজার কোটি টাকা সাবসিডি দিচ্ছি। আমাদের মতো দেশের জন্য এটা দীর্ঘদিন বহন করা কঠিন।”
গত ১৭ বছরে সমুদ্রসীমা অর্জন উদ্যাপন করা হলেও সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগানো যায়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে, আর বাংলাদেশ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারিতে কর-শুল্কসুবিধার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।
“ভিক্ষা নেওয়া কী দরকার? আপনারা টাকা নেন, টাকা নিয়ে ব্যবসা করেন, ব্যবসা করে টাকা ফেরত দিয়ে দেন। কনসেশনাল রেটে টাকা পাবেন।”
এনজিও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনে যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনই জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন টুকু। এনজিও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ চাইলে সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।