১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢালাও মামলায় সরকার ‘বিব্রত’: আইন উপদেষ্টা

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আইনের মাধ্যমে করার কথাও বলেন তিনি।

ঢালাও মামলায় সরকার ‘বিব্রত’: আইন উপদেষ্টা
আইন ও বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Nov 2024, 12:31 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:54 AM

সাধারণ লোকজন যেভাবে ঢালাও মামলা দিচ্ছে তা ‘সরকারকে বিব্রত করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইন ও বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।

বৈঠক শেষে তিনি উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আইনের মাধ্যমে করার কথাও সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। 

কমিশনের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে সভায় আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, “উনারা যেভাবে কাজ এগোচ্ছেন আমি খুবই আশাবাদী হয়েছি। উনারা যে রকম একটা বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন বা স্বপ্ন দেখছেন তা যদি সত্যই করা যেত তাহলে সম্ভবত বিচারাঙ্গণে সমস্যা যা আছে সেগুলো থাকত না। আমাদের এখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মানুষের অধিকার অনেক বেশি শক্ত হত।

“উনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আমরা উনাদের যথেষ্ট সাপোর্ট দিতে পারছি না। বিশেষ করে লজিস্টিক সাপোর্টের প্রবলেম আছে। এগুলো সত্ত্বেও উনারা এত কষ্ট করে কাজ করছেন এজন্য উনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।”

ঢালাও মামলায় সরকার বিব্রত

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “দুটো ব্যাপারে উনাদের কাছে স্পেসিফিক সহায়তা চেয়েছি। আপনারা জানেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গায়েবি মামলা হতে। সরকারের পক্ষ থেকে গায়েবি মামলা দিত। এখন আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা-টামলা দিচ্ছি না। সাধারণ লোকজন, ভুক্তভোগী লোকজন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তারা অন্যদের ব্যাপারে ঢালাও মামলা দিচ্ছে। ঢালাও মামলার একটা মারাত্মক প্রকোপ দেশে দেখা দিয়েছে, এটা আমাদেরকে অত্যন্ত বিব্রত করে।

“আমরা অনেক ধরনের আইনি সংস্কারের কথা ভাবছি, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি। এখানে বাংলাদেশের বিচারাঙ্গণের বেস্ট ব্রেইন আছেন, তাদের কাছে একটা প্রত্যাশা উনারা আমাদের আইনগতভাবে কীভাবে জিনিসটি ট্যাকেল করা যায় সে পরামর্শটা নিতে এসেছি। উনারা পরামর্শটা দেবেন, কাজ করে রিসার্চ করে জানাবেন।”

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেটা আমরা আইনের মাধ্যমে করতে চাচ্ছি। আইনের মাধ্যমে করার দাবি সমাজে বহুদিন যাবত আছে। ২০০৮ সালে এরকম একটা আইন হয়েছিল, ওই আইনটা পরে আর আইনে রূপান্তরিত হয় নাই। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এসে সেটাকে আর আইনে রূপান্তরিত করে নাই।“

আগের আইনটাকে আরও বেশি যুগোপযোগী করতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সহায়তা চাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যাতে পরবর্তী যে নিয়োগ সেটা আইনের মাধ্যমে করা যায়।