Published : 13 Sep 2026, 03:10 PM
জুলাই আন্দোলনের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়ার সময় ‘মাথা ঘুরে’ পড়ে গেলেন মডেল সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাস।
রোববার দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে আবার হাজতখানায় নেওয়া হয়।
মিষ্টি সুবাসের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘মাথা ঘুরে’ পড়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন মিষ্টি সুবাস। এরপর সুস্থ অনুভব করলে তাকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে নেওয়া হয়।
গত ২৬ মার্চ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন মিষ্টি সুবাস। এরপর একে একে তাকে চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পেয়ে মিষ্টি সুবাস কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন বলেন জানান তার আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।
এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর জুলাই আন্দোলনের আশুলিয়া থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতোয়ার রহমান। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন ১৩ সেপ্টেম্বর।
এদিন শুনানিকালে মিষ্টি সুবাসকে কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। বেলা ১২টার দিকে কাঠগড়ায় নেওয়ার জন্য তাকে হাজতখানা থেকে বের করা হয়। এসময় তিনি অসুস্থতাবোধ করে পড়ে যান।
তখন দায়িত্বরত কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে তুলে হাজতখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যান৷ পরে সুস্থতা অনুভব করলে তাকে ফের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়।
এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মিষ্টি সুবাস কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছি। এটা তো কোনো অপরাধ হতে পারে না। আমাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
“জামিন পেলেই আমাকে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। আমি তো কোনো অন্যায় করেনি। বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন।”
এসময় আসামিপক্ষে আইনজীবী গোলাম রাব্বানী গ্রেপ্তার না দেখানোর আর্জি জানান। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন কিশোর আবির। এসময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাদের ছোড়া গুলিতে আবির গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়।