Published : 06 Nov 2025, 04:40 PM
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রেখে আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ অধ্যাদেশ জারি হলে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গুমঘর স্থাপন ও ব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, "আপনি জানেন যে শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে গুম হয়েছে। তার মধ্যে গুম বিষয়ক যে কমিশন করা হয়েছে, সেখানে অভিযোগের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এবং ওই কমিশনে যারা পাঁচজন, যারা কমিশনের মেম্বার আছেন তারা তাদের রিপোর্টে বারবার বলছেন যে এটার সংখ্যা চার হাজারের উপরে হবে।
“তাদের শত শত আয়নাঘর ছিল, সেখানে রাখা হত। এ অধ্যাদেশ করার ফলে দেশে আর কোনো আয়নাঘর তৈরি হবে না।”
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধী মতের বহু মানুষকে তুলে নিয়ে বিচার বহির্ভূতভাবে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখার অভিযোগ ওঠে, সেইসব বন্দিশালার প্রতীকী নাম রাখা হয় ‘আয়নাঘর’।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসব ‘গুমের’ ঘটনা তদন্তে গতবছর অগাস্টে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে সরকার।
গত ডিসেম্বরে জমা দেওয়া কমিশনের প্রথম অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ‘গুমের নির্দেশদাতা’ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কমিশনের তদন্তে।

প্রেস সচিব বলেন, "আজকে গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য একটা ল অনুমোদন হয়েছে। এটা নিয়ে 'যথেষ্ট ডিবেট হওয়ার পর' আজকে এটা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়েছে।
"এই অধ্যাদেশে গুমকে চলমান অপরাধ, মানে কন্টিনিউ অফেন্স হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, "গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন, আয়নাঘর নামে পরিচিত এসব স্থান স্থাপন ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
"এই অধ্যাদেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা, ভুক্তভোগী ও তথ্যপাচারকারী ও সাক্ষীর অধিকার সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চয় নিশ্চয়তা প্রদান সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছ।"
এছাড়া গুম প্রতিরোধ প্রতিকার ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে 'তহবিল গঠন' এবং 'তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার' বিধানও সংযোজিত হয়েছে বলে প্রেস সচিব জানান।
তিনি বলেন, এদিন জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এছাড়া ২০২৬ সালে মোট ২৮ দিন ছুটির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
পুরনো খবর