১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ‘জনগণের রাষ্ট্র’ চাইতেন: সংস্কৃতিমন্ত্রী

“দ্বিমত পোষণ করলে কখনো তার চোখ, নাক, মুখ, অন্তর কুঞ্চিত হতো না বিন্দুমাত্র,” বলেন মাহবুব বোরহান।

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ‘জনগণের রাষ্ট্র’ চাইতেন: সংস্কৃতিমন্ত্রী
বাংলা একাডেমি আয়োজিত আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রয়াণ-উত্তর ‘শ্রদ্ধা নিবেদন ও পর্যালোচনা’ সভায় বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 09:22 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে স্মরণ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতা রায় চৌধুরী বলেছেন, তার এই শিক্ষক ‘জনগণের রাষ্ট্র’ চাইতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে প্রয়াত আবুল কাশেম ফজলুল হককে শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “উনি নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। উনি একটা সুনির্দিষ্ট পক্ষ সমর্থন করতেন। সেটা হচ্ছে এদেশের মেহনতি মানুষ, এদেশের শ্রমিক কৃষক, এদেশের সাধারণ মানুষ—যাদের জন্য বাংলাদেশ।”

গেল ৫ জুলাই বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রয়াত হন। তিনি চার দশক অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।

বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমি আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রয়াণ-উত্তর ‘শ্রদ্ধা নিবেদন ও পর্যালোচনা’ সভা আয়োজন করে।

সেখানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “৯৫ শতাংশ মানুষ যারা গ্রামে বসবাস করে, যারা কৃষক শ্রেণির মানুষ, যারা শ্রমজীবী শ্রেণির মানুষ। বাংলাদেশ মানেই একটি গ্রাম। এরাই, যত কিছু আমাদের অর্জন, যা কিছু আমাদের সম্পদ—এই কৃষকদের কাছ থেকেই এসেছে। উনি (আবু কাশেম ফজলুল হক) জনগণের রাষ্ট্র চাইতেন। ‘পাবলিকের’ কল্যাণ না, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের মুক্তি উনি চাইতেন।” 

‘বাংলাদেশপন্থি বুদ্ধিজীবী ছিলেন তিনি’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজিজুল হক বলেন, “আবুল কাশেম ফজলুল হক আসলে ষাটের দশকের সৃষ্টি। আমাদের বাংলাদেশে মানে ৪৭ উত্তর কালে যে পাকিস্তান পর্ব ৭১ পর্যন্ত, তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত সময় আমাদের ষাটের দশক, এই পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে। 

“এবং এই সময়ে যে আন্দোলনের রাজনৈতিক একটা দিক আছে, আর বুদ্ধিজীবিতার একটা দিক আছে, এই দুটো দিকেই আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন।” 

সাহিত্যের অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও তিনি কিন্তু অনেক বেশি রাজনীতি প্রবণ ছিলেন, বলেন আজিজুল হক।

আবুল কাশেম ফজলুল হক বাংলাদেশপন্থি বুদ্ধিজীবী ছিলেন মন্তব্য করে এই অধ্যাপক বলেন, “বাংলাদেশটা তার চিন্তার মধ্যে ছিল সবসময়, মানে একান্তভাবে বাংলাদেশ। এটাকে আমি আর একটু ব্যাখ্যা করে বুঝাই, একটা জিনিস সেটা হল যে ষাটের দশকে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে মানে বাষট্টির আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, আটষট্টির আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরোধী যে আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ, এই চেতনার সঙ্গে তিনি ছিলেন। 

“কিন্তু একথা আবার মনে রাখতে হবে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, আমরা কিন্তু বাঙালিত্ব বলতে বা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বলতে একটা জায়গায় মনে হয় যে আটকে থাকি, তা কিন্তু নয়।”

‘তার সঙ্গে দ্বিমত করা যেত’

প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক মাহবুব বোরহান বলেন, “আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তা—কোথায় গেলে, কার কাছে গেলে কাজ করা যাবে, শেখা যাবে—আমার কাছে মনে হয়েছে সত্যি তিনি আলো দিয়ে আলো জ্বালিয়েছেন, আলোর সন্ধান দিতে পারতেন।” 

তিনি বলেন, “আমি আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারকে ভালোবাসি কারণ তার সাথে নির্দ্বিধায় দ্বিমত পোষণ করা যেত। দ্বিমত পোষণ করলে কখনো তার চোখ, নাক, মুখ, অন্তর কুঞ্চিত হতো না বিন্দুমাত্র।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, ভাষাবিদ অধ্যাপক মনসুর মুসা, প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক শুচিতা শরমিন।