Published : 14 Aug 2026, 11:09 PM
রাজধানীর উত্তরায় র্যাবের অভিযানে প্রায় কোটি টাকার কোকেন উদ্ধারের মামলা নতুন মোড় নিয়েছে; পুলিশের তদন্তে জব্দ আলামতে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এ কারণে মামলার দুই আসামি সাইদুজ্জামান কাজল ও মজনু মিয়াকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।
গত ১৪ এপ্রিল উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১।
র্যাবের ভাষ্য ছিল, তাদের কাছ থেকে ৪৮০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
ওই ঘটনায় র্যাব-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হালিম বাদী হয়ে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আবু সাঈদ গত ৩১ জুলাই দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্দ করা ৪৮০ গ্রাম কথিত কোকেনের মধ্য থেকে পাঁচ গ্রাম নমুনা হিসেবে নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচ গ্রাম নমুনা আলামত হিসেবে সংরক্ষণ এবং অবশিষ্ট ৪৭০ গ্রাম ধ্বংসের আদেশ চাওয়া হয়।
সিআইডি পুলিশের রাসায়নিক পরীক্ষায় ওই নমুনায় কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সেখানে বলা হয়, বাদী ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে’ মামলা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জব্দ করা আলামত রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। সেখানে কোকেনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তথ্যগত ভুল মর্মে দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।”
জব্দ করা আলামত কোকেন না হলে সেটি কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কোর্টকে জিজ্ঞাসা করেন। আর আলামত পরীক্ষা যে করেছে তাকে জিজ্ঞাসা করেন। ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আমি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারি না।”
এ বিষয়ে থানার ওসি বা উপ পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
গত ১৪ এপ্রিল উত্তরায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৪৮০ গ্রাম ‘কোকেন’সহ দুজনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছিল র্যাব। সে সময় র্যাবের তরফে এই
র্যাবের বক্তব্য
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মামলার বাদী, র্যাব-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, “ল্যাব টেস্ট আমরা করায়নি। অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তার করি। তারা কোকেনের কথা স্বীকার করে। আবার প্যাকেটের গায়েও ‘কোকেন’ লেখা ছিল।”
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১ জানতে পারে, উত্তরা পশ্চিম থানার এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ‘কোকেন বিক্রির জন্য’ অবস্থান করছে।
এরপর র্যাবের একটি দল উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে ফিফট অ্যালায়েন্স গ্লোবাল ট্রেডিং লিমিটেডের কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে যায়। র্যাব সেখানে পৌঁছালে সাইদুজ্জামান কাজল ও মজনু মিয়া হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে ‘পালানোর চেষ্টা করেন’ বলে এজাহারে বর্ণনা করা হয়।
মামলায় বলা হয়, পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ব্যাগে কোকেন থাকার কথা ‘স্বীকার’ করেন।
কাজলের হাতে থাকা ব্যাগ থেকে ৪৮০ গ্রাম ‘কোকেন’ উদ্ধারের তথ্য দিয়ে এজাহারে বলা হয়, এর আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি টাকা।
একজন কারাগারে, অন্যজন জামিনে
মামলার দুই আসামির মধ্যে মজনু মিয়া জামিনে রয়েছেন। আর সাইদুজ্জামান কাজল আছেন কারাগারে।
কাজলের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, “কোকেন পাওয়া গেছে এমন অভিযোগে র্যাব দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটা কোকেন না। আমার আসামি কারাগারে আছে। সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য আছে। আশা করছি, ওইদিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন।”
আগামী ৩০ অগাস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন।