Published : 25 Sep 2025, 04:04 PM
গুলশান থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় নড়াইল-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ কবিরুল হক মুক্তিসহ দুজনকে ৬ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ।
রিমান্ডে যাওয়া আরেকজন হলেন, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি মোজাম্মল হক।
বুধবার সন্ধ্যায় নিকেতনের একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন গুলশান থানার এসআই আব্দুস সালাম তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। কবিরুল হক মুক্তির পক্ষে আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে মোজাম্মেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর মোজাম্মেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে দেখা যায়, তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে Dhanmondi 3A, UK Awami League, All Group Admn, জলন্ত ধানমন্ডি ৩২ বলছি, ধানমন্ডি ৩২ থেকে বলছি, বঙ্গবন্ধু রিজার্ভফোর্স, ঢাকা মহানগর উত্তর, শেখ হাসিনা সাইবার ফোর্স এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করে অনলাইন যোদ্ধা আওয়ামী সৈনিক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় সংসদ, লন্ডন মহানগর শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ছাতক উপজেলা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যশোর জেলা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে ‘রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংসের’ লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য উস্কানিমূলক প্রচার-প্রচারণা করতেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানের ফজলে রাব্বী পার্কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন। এসময় তারা চলাচলরত গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে পালানোর চেষ্টাকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জব্দ করা হয় তাদের মোবাইল ফোন। এসব ফোনে ব্যবহৃত মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপে আসামিরা রাষ্ট্রকে ‘অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে’ নিজেরা সংগঠিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলে পুলিশ দেখতে পেয়েছে।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মাহাবুব হোসাইন ওইদিন সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ঘটনায় মুক্তির বিরুদ্ধে নড়াইল ও ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে।
কবিরুল হক মুক্তি ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।