দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
Published : 27 Mar 2025, 11:33 PM
শবে কদরের রাতে এ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আলোচনায় সভার আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর ফাউন্ডেশন আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগীতে অংশ নিয়েছে মুসলিম ধর্মালম্বীরা।
রাজধানীতে জাতীয় মসজিদের পাশাপাশি দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে মিলাদ মাহফিলের আয়োজনও করা হচ্ছে মসজিদে মসজিদে। বাসায় থেকেও এ রাতে ইবাদত বন্দেগীতে পার করছেন অনেকে।
বায়তুল মোকাররম মসজিদে আলোচনা সভায় জাতীয় এ মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম মাওলানা মুফতী মো. মিযানুর রহমানসহ অন্যরা শবে কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন।
শবে কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া বাণীতে তিনি বলেন, “পবিত্র এই রজনিতে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় মাতৃভূমি এবং মুসলিম উম্মাহর মাগফেরাত, উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি।“
রাতভর ইবাদত শেষে ফজরের নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সেখানে মুসলমানদের পবিত্র এ রজনীর কর্মসূচির শেষ হবে।
রোজার শেষ ১০ দিনের বিজোড় সংখ্যার রাতগুলোর একটি ‘মহিমান্বিত রাত’ বলে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ (সা.) জানিয়ে গিয়েছিলেন।
এ রাতেই কোরআন শরিফ নাজিল হয়েছে বলে মুসলমানদের কাছে এটি অতি মহিমান্বিত একটি রাত। এ রাতে তারা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন।
সেই শবে কদরের রাত কবে, তা নিশ্চিত করে না হলেও ইসলামী অনেক চিন্তাবিদ ২৭ রমজানের রাতটিই শবে কদরের সেই রাত হিসেবে ধরে নেন।
এই ধারণার পেছনে একটি ব্যাখ্যাও দাঁড় করানো হয়। তা হল, মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কুরআনে লাইলাতুল কদর শব্দটি তিনবার রয়েছে, এতে অক্ষর রয়েছে ৯টি, তিনবারে মোট ২৭টি অক্ষর। এটা শবে কদরের রাত নির্ধারণের এক ধরনের ইঙ্গিত বলে তারা মনে করেন।
বাংলাদেশে অধিকাংশ মুসলমান ২৬ রমজান শেষে ২৭ রমজানের রাতটিতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হিসেবে পালন করে থাকেন।
এ রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করছেন।
শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইন মাধ্যম ও সংবাদপত্রগুলোতেও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হচ্ছে।