‘হ্যারেসমেন্ট’ করতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে: আদালতকে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে কেক ও পানি খেতে দেখা যায়।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাসায় থাকা এবং অফিস করার কথা তুলে ধরে জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ আদালতকে বলেছেন, তাকে ‘হয়রানি’ করতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
শুনানি নিয়ে আদালত সাবেক এই সংসদ সদস্যকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আরিফ রেজা জানান।
শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
তাকে ঢাকার তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ সোহেল সরকার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
বেলা ২টার দিকে নূর মোহাম্মদকে এজলাসে তোলা হয়। তাকে আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয়। রিমান্ড বিষয়ে ৩টায় শুনানি হবে বলে জানানো হয়। এরপর থেকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে কেক ও পানি খেতে দেখা যায়। আইনজীবীসহ স্বজনদের সাথে কথা বলেন। ৩টার কিছু আগেই রিমান্ড বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।
আসামিপক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ কামরুল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “মামলার ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন। তিনি একজন সাবেক সংসদ সদস্য, এটায় তার অপরাধ। তিনি অসুস্থ। তাকে নিয়মিত থেরাপি দিতে হয়। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
এ পর্যায়ে দালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে আমি বাসাতেই ছিলাম।”
ওই বছরই প্রথম সংসদ সদস্য কি না জানতে চান বিচারক। জবাবে নূর মোহাম্মদ বলেন, “হ্যাঁ।”
এরপর নূর মোহাম্মদ আদালতকে বলেন, “৫ অগাস্টের পর থেকে আমি বাসায় ছিলাম। একদিনের জন্যও বাইরে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম থাকলে তো বাসায় থাকতাম না। বাসা থেকে নিয়মিত অফিসে করি, আবার বাসায় আসি।”
এসময় বিচারক নূর মোহাম্মদের কাছে জানতে চান, তিনি কি করেন? জবাবে এই সাবেক এমপি বলেন, “ব্যবসা করি।”
নূর মোহাম্মদ বলেন, “হ্যারেসমেন্ট করার জন্য আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে।
“দেশের পরিস্থিতি অস্থির করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্লাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।”
পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলিশ ‘অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন’ উদ্ধার করে বলে মামলার বাদীর ভাষ্য।
