১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ইউনূসসহ ২৭ জনের নামে মামলার আবেদন খারিজ

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনার পতনের ছয় মাস পূর্তির দিনে ঘোষণা দিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেকু দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ইউনূসসহ ২৭ জনের নামে মামলার আবেদন খারিজ
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনার পতনের ছয় মাস পূর্তির দিনে ঘোষণা দিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেকু দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 04:31 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের নামে যে মামলার আবেদন হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। 

‘মামলা গ্রহণ করার উপাদান না থাকায়’ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন জানান।

তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী এদিন মামলার ওই আবেদন করেছিলেন। তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনার পতনের ছয় মাস পূর্তির দিনে ঘোষণা দিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেকু দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবনে আগুন দেওয়া হয়।

মামলার আর্জিতে ইউনূস ও আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে এনসিপির সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুহ সজিব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম, এনসিপির সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসউদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, সামান্থা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাতকে আসামি করার আর্জি জানানো হয়েছিল।

এছাড়া প্রবাসী ইনফ্লুয়েন্সার পিনাকী ভট্টাচার্য্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, তাহরীমা জান্নাত (সুরভী), বুলডোজার সাপ্লায়ার মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদকে আসামি করার কথা বলা হয়েছিল আর্জিতে।

এর বাইরে আরও ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করার আবেদন করেছিলেন বাদী।

আর্জিতে বলা হয়, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনূসসহ ৯ জনের ‘মদদ, উসকানি ও সার্বিক সহযোগিতায়’ অন্য আসামিরা লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি, দাহ্য পদার্থসহ অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাঙালী জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল সূতিকাগার এবং ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আক্রমণ চালায়।

তারা ভবনে ঢুকে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিল, মুক্তিযুদ্ধের দলিল, প্রামাণ্যচিত্র, বই-পুস্তকসহ মূল্যবান সম্পদের ক্ষতি করে, লুটপাট করে নিয়ে যায়।

তারা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুটি বুলডোজার, এক্সক্যাভেটর, হ্যামার ও ভারী যন্ত্রপাতি এনে তারা বঙ্গবন্ধু ভবন ভাঙা শুরু করে। ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভেঙে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়।

আসামিদের অনেকে ফেইসবুকে উকানিমূলক পোস্টও করেন বলে মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয়।