Published : 12 Apr 2026, 05:33 PM
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এসব অধ্যাদেশ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা ও কোনো অসচ্ছতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৭টি হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনী আকারে এনে আইনে রুপান্তর করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজত করা হয়েছে।
“বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক অধিকতর যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও বলা আছে।”
আসাদুজ্জামান বলেন, “জাতীয় সংসদে তিন থেকে চারটি অধ্যাদেশের উপরে অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে; যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সবগুলো অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এ অভিযোগে জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপিরা সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়েও গেছেন।
বিরোধী দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, “যারা বলছেন, আমরা শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন চাই না, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় চাই না কিংবা বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই না, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, বিএনপি তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এসব আইনকে আরো বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী করতে চায়।”
তিনি বলেন, “অন্যান্য বিলের ব্যাপারে আমরা যেটা বলেছি, অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা যে ৭টি অধ্যাদেশের রহিতকরণ ও হেফাজত বিল করেছি, তার মধ্যে আপনাদের উদাহরণ হিসেবে বলি, যেমন—মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন।
“এই তিনটা আইনেরই আমরা যখন একটা আইন বিল আকারে দিই, তখন একটা প্রিয়েম্বল থাকে আইনের যে, আইনটা কেন আমরা দিচ্ছি। সেখানে একটা কারণ সম্বলিত বিবৃতি দিতে হয়। সেটা কেন দিচ্ছি?
“এই বিলগুলোর মধ্যে ক্লিয়ারলি আমরা বলেছি, যেমন— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিলে বলেছি, যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৫ এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
“আমরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশেও বলেছি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০০৫-এর বিধানাবলী অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিষয়েও বলেছি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সহিত অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।”
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের এখানে কোনো অস্পষ্টতা রাখি নাই, কোনো অস্বচ্ছতা নাই। আমাদের সংসদের কাছে আইনের মাধ্যমে যখন বিলটা উপস্থাপন করছি, এটা পাস হয়ে যাচ্ছে, আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। রহিতকরণ বিল হলেও এটা কিন্তু আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।