Published : 05 Aug 2026, 01:44 AM
রাজধানীর রায়েরবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে মো. নাঈম শেখ নামে ১২ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার বলছে, মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাকে ‘বেদম মারধর করতেন’। শিশুটিকে অন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে চাইলেও শিক্ষকরা সেই ‘সুযোগ দেননি’।
ওই ঘটনায় মামলার পর রওয়াজাতুল উলূম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. জাকারিয়া (৩৫) ও মো. জোবায়ের আহম্মেদকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা এখন কারাগারে।
শিশুটির মামা মো. সুমন বলছেন, স্বামীর সঙ্গে কয়েকবছর আগে বিচ্ছেদ হলে দুই ভাগনেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তার বোন। ভাগনে নাঈমকে জুরাইনের ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। বেতন থাকা-খাওয়াসহ মাসে ৪ হাজার টাকা লাগত।
মাদ্রাসায় নাঈমকে আগেও মারধর করা হত অভিযোগ করে সুমন বলেন, “মাদ্রাসায় পড়া না পারলে দুই-একটা বাড়ি দেয়, কিন্তু এইখানে হুজুরে একেবারে চড়াও হয়ে মারে।
“তো মাসখানেক আগে হবে, আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এই মাদ্রাসায় আর রাখব না। অন্য মাদ্রাসায় নিব। আমরা হুজুরের সঙ্গে কথা বললাম, কোনো ঝগড়া হয়নি, এমনিই তাকে শুধু প্রশ্ন করছিলাম কেন এভাবে মারে।”
সুমন বলেন, “এরপর আমরা যখন অন্য মাদ্রাসায় নেওয়ার জন্য বাচ্চা আনতে গেলাম, তখন হুজুরে আর ছাড়পত্র দেয়নি, বাচ্চা দেয়নি। ধারণা করছি এই কারণেই হয়ত হুজুরে ওর ওপর তাণ্ডবটা বেশি করেছে।”
তার অভিযোগ, প্রতি শুক্রবার মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও শিশুটিকে বাসায় আসতে দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের সঙ্গে ঠিকমত ফোনেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
নাঈমের মা নাজমা বেগম বলেন, “আমার সঙ্গে একবার কথা হইল। পোলায় আমারে কী যেন কইতে চাইছিল। কিন্তু তারে বলতে দেয়নি।”
সোমবার দুপুরে রায়েরবাগের ওই মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে নাঈমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বেতের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় মামলা করেন নাঈমের মা নাজমা বেগম। এরপর মাদ্রাসাটির শিক্ষক জাকারিয়া ও জোবায়েরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে নাঈমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকালে তাকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন-