Published : 26 Jul 2025, 05:37 PM
ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকার মধ্যে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন ২ শিক্ষার্থী।
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন।
ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ১২ বছর বয়সী আয়ান খান; আরেকজন একই বয়সী রাফসি আক্তার রাফিয়া।
দুইজনই এক শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল, ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হল।
নাসির উদ্দীন বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও ১০ জনকে আমরা রিলিজ দিতে পারব।”
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ান খানের বাবা মোস্তফা কামাল বাপ্পী বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সে সুস্থ আছে, চিন্তার কিছু নাই। যতটুকু বার্ন হয়েছিল হাতে, এখন ঠিক আছে। কানে একটু সমস্যা আছে, আশা করছি সেটিও ঠিক হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “দোয়া করি প্রত্যেকটা সন্তানকে আল্লাহ তার মা-বাবার কোলে ফিরায়ে দিক।”
এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিফ ফারহান মারা যায়। এর ঘণ্টাখানেক পরেই মৃত্যু হয় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়া মাসুমার।
এদিন দুজনের মৃত্যুর ‘দুঃসংবাদ’ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে চিকিৎসাধীন দুই শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া তথ্য দিলেন হাসপাতালটির পরিচালক।
এ সময় তিনি বার্ন ইনস্টিটিউটে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় আরও চারজন আইসিইউতে এবং ‘গুরুতর’ অবস্থায় আরও নয়জন চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, “ক্রিটিক্যাল যারা, প্রতি মুহূর্তেই তাদের ব্যাপারে যেকোনো সংবাদ পাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি।”
তিনি জানান, ভারত থেকে আসা টিমে দুজন ডাক্তার ও দুজন নার্স রয়েছেন। চীন থেকে এসেছেন তিনজন ডাক্তার, দুজন নার্স। আর সিঙ্গাপুর থেকে ৯ জন এসেছেন, যাদের মধ্যে তিনজন ডাক্তার বাকিরা ‘সাপোর্টিং স্টাফ’।
পরিচালক নাসির উদ্দীন বলেন, “বিভিন্ন টিম যেগুলা আসছে, তাদের সঙ্গে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাই মিলে আমাদের ‘মাল্টি ডিসিপ্লিনিয়ারি’ টিমসহ বসে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এজন্য যা করার দরকার, তাই করেছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা আমাদের সঙ্গে একমত।”
দুজনকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর বার্ন ইনস্টিটিউটে এখন চিকিৎসাধীন আছে ৩৬জন, আর সব হাসপাতাল মিলে চিকিৎসাধীনের সংখ্যা ৪৬ জন।
সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই শিশু।