১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হতাহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণসহ ৯ দাবি মাইলস্টোনের অভিভাবকদের

“দুর্ঘটনার জন্য সরকার যতটা দায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষও ততটা দায়ী। তাই আলাদা আলাদা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2025, 08:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, দুর্ঘটনার দিনে স্কুলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখানো এবং কোচিং সেন্টার বন্ধসহ নয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা।

মঙ্গলবার সকালে দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

অভিভাবকদের পাশাপাশি মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে নিহত ছাত্রছাত্রীদের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তারা ‘কোচিংয়ের নামে ব্যবসা, বন্ধ কর, বন্ধ কর’, ‘ফুল-পাখি সব পুড়ল কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’, ‘কী এসেছে কী এসেছে, বিমান এসেছে, বিমান এসেছে, কী করেছে কী করেছে, মায়ের বুক খালি করেছে’, ‘শিক্ষা না ব্যবসা, শিক্ষা-শিক্ষা’- এমন সব স্লোগান দেন।

অষ্টম শ্রেণির নিহত শিক্ষার্থী তানভীরের বাবা রুবেল মিয়া সাংবাদিকদের সামনে অভিভাবকদের পক্ষে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন।

দাবিগুলো হল

>> বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 

>> মাইলস্টোন স্কুলসহ সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। 

>> সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নিহত শিশুর জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং প্রত্যেক আহত শিক্ষার্থীদের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

>> স্কুলের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহত শিশুর জন্য দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং প্রত্যেক আহত শিশুর জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

>> রানওয়ে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় রানওয়ের স্থান পরিবর্তন করতে হবে। 

>> কোচিং ব্যবসার ‘মূল হোতা’ স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। 

>> স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাতে হবে। 

>> বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণব্যবস্থা জনহীন জায়গায় করতে হবে। 

>> মানববন্ধন করতে চাইলে কনক নামের এক শিক্ষক এক অভিভাবকের ’গায়ে হাত তোলেন’। তাকে অপসারণ করতে হবে।

রুবেল মিয়ার অভিযোগ, “বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দিনে স্কুলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও লুকানো হয়েছে। প্রত্যেকটা শ্রেণিতে সিসি ভিডিও আছে। এটা মিডিয়াতে আসেনি। আমাদের বাচ্চা কতগুলো মারা গেছে এখনও সঠিক তথ্য পাইনি। 

"আমি আমার ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে পাইনি। বার্ন ইউনিট থেকে আমি তানভীরের নিথর দেহ নিয়ে গেছি। সিসি ফুটেজ দেখলে আমি দেখতে পারব, কীভাবে এখান থেকে নিসে তাও আমি জানি না।"

জনবহুল এলাকাতে যেন বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ না চলে সে দাবি জানিয়ে এই অভিভাবক বলেন, “জনবহুল জায়গায় যেন বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ না হয়।"

মাইলস্টোনে শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিং বাধ্যতামূলক বলে তুলে ধরেন অভিভাবক রুবেল। বলেন, কোচিংয়ের জন্য স্কুল থেকে চাপ দিত, প্রত্যেক অভিভাবককে ফোন দেওয়া হত। কোচিং না করালে বাচ্চাদের একই মালিকের আরেক প্রতিষ্ঠান মেগাসিটিতে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হত। আমরা এ কোচিং বাণিজ্য বন্ধ চাই।"

সরকার ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে আলাদা আলাদা ক্ষতিপূরণ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, "দুর্ঘটনার জন্য সরকার যতটা দায়ী, স্কুল কর্তৃপক্ষও ততটা দায়ী। তাই আলাদা আলাদা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।"