১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খালেদা জিয়ার মামলায় আপিল করেছিল দুদক, মনে করালেন কমিশনার

“ফলাফল যা হবে সেটার জন্য দায়বদ্ধতা আমাদের না। কিন্তু কোর্ট যদি দেখে সেখানে কোনো সাবস্ট্যান্স নাই, নিশ্চয় ডিফেন্সের দিকেই যাবে ফলাফল।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2025, 09:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:11 PM

মামলার রায় বিপক্ষে গেলেও দুদক আপিল করে না–এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা মনে করিয়ে দিলেন দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

তিনি বলেছেন, “মাননীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় যেটা অনারেবল হাই কোর্ট রায় দিয়েছে, সেটারও দুদক আপিল করেছে এবং সে আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। 

“ফলাফল যা হবে সেটার জন্য দায়বদ্ধতা আমাদের না। কিন্তু কোর্ট যদি দেখে সেখানে কোনো সাবস্ট্যান্স নাই, নিশ্চয় ডিফেন্সের দিকেই যাবে ফলাফল। কিন্তু আপিল… এটা থেকে বড় দৃষ্টান্ত আর কিছু হতে পারে না।”

দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় কমিশনের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন হয়েছিল। সেখানেই এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আলি আকবার আজিজী এমন কথা বলেন। 

দুদকের আইনজীবীরা ‘টালবাহানা করেন’– এমন অভিযোগের জবাবে আজিজী বলেন, “আমাদের আইনজীবীগণ জ্ঞানতভাবে টালবাহানা করেননি। আমাদের আইন অনুবিভাগের যিনি মহাপরিচালক, তিনি একজন সিনিয়র জেলা জজ। 

“অতি সম্প্রতি তারই স্বামী মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হয়েছেন। সুতরাং তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন। এবং আমাদের যিনি দুজন ডিরেক্টর আছেন, ডিরেক্টর লিগ্যাল এবং ডিরেক্টর প্রসিকিউশন—তারা প্রত্যেকেই বিচার বিভাগ থেকে এসেছেন।”

তিনি বলেন, “যাবাক (যাচাই বাছাই কমিটি) নিয়ে যে প্রশ্ন, সেখানে একজন জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জজকেও অন্যতম সদস্য রাখা হয়েছে, যাতে লিটিগেশন সংক্রান্ত কোনো কিছু যেন কারোর দৃষ্টি এড়িয়ে না যায়।”

দুদক যদি এতই দক্ষ হয়, সেই তুলনায় ফলাফল ‘এত কম কেন’–এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ এর সহজ উত্তর হল, মাননীয় আদালতের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। আপনারা শুনলে কষ্ট পাবেন যে ঢাকা  দেশের রাজধানী, সেই মহানগরে আমাদের বিশেষ জজ আদালতের সংখ্যা মাত্র ১১টি। 

“১১ জন বিচারকের পক্ষে কি এতগুলো মামলার রায়… তারা যদি সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ না করেন, তবুও সম্ভব না। সুতরাং প্রয়োজন আদালতের সংখ্যা বাড়ানো। আদালতের সংখ্যা না বাড়লে ডিসপেনসেশন যেমন, তেমনই থাকবে, ব্যাকলগও থাকবে।”

দুদক কমিশনার বলেন, “যতটুকু আমি জানি, মাননীয় আইন উপদেষ্টা খুব আন্তরিক, এবং মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল এই তিনজন নিরলসভাবে আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এটা একটা ভালো বার্তা।”

তিনি বলেন, “যদি কোনো আপিল করার ক্ষেত্রে সত্যি সত্যিই আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তো আইনের বিধান আছে, আমরা তামাদি খণ্ডনের জন্য আবেদন করে আপিল করি। এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আমাদের তামাদি খণ্ডনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বলেই (শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে) বার্জ মাউন্টেন মামলা আবার বিচারে ফিরে এসেছে। আমরা আপিল করেছি, সেই কারণে মামলাটি এখন বিচারে ফিরে এসেছে। সুতরাং আমরা চোখ বন্ধ করে বসে নেই।

“আরেকটা কথা—মাননীয় চেয়ারম্যান আগেই উত্তর দিয়েছেন যে আমরা ‘দন্ত-নখরবিহীন’ কিনা। না, দন্ত-নখর আমাদের আছে। আরেকটু শাণিত করা হয়ত দরকার হবে। কিন্তু আমি এক্সেলেন্সির সঙ্গে বলতে চাই যে দুদক যথার্থই আইনি শক্তিতে মহীয়ান। আইনি শক্তি আমাদের একটুও কম নয়। এখন লোকবল কিছু কম আছে।”

নির্বাচন-পূর্ব সময়ে হলফনামায় সম্পদ বিবরণীতে কোনো মিথ্যা তথ্য থাকলে দুদক সেটা দেখবে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “অবশ্যই দেখবে। এই ক্ষেত্রে মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় শুধু একটি নয়—নির্বাচন কমিশনের কাছে একটার পর একটা রিকুইজিশন দিচ্ছেন, ইনশাআল্লাহ—যাতে তাদের হলফনামার কপি আমাদের পাঠানো হয়। আমরা টালি করে নেব নির্বাচনের আগে তিনি কতটুকু সম্পদের অধিকারী ছিলেন, আর পরে কতটুকু বেড়েছে।”

আজিজী বলেন, “আরও শুনে খুশি হবেন—মাননীয় চেয়ারম্যানসহ তার সহকর্মীবৃন্দ এবং আমরা কমিশনাররা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের সম্পদ বিবরণী দিয়েছি—কতটুকু আমাদের ঋণ আছে তাও উল্লেখ করেছি। আগামীতে যাবার সময় আবার সম্পদ বিবরণী দিয়ে যাব। 

“এই ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ আবার দেব। আপনারা মিলিয়ে দেখবেন—এক বছরে আমার সম্পদ কতটুকু বেড়েছে, কতটুকু কমেছে। ইনশাআল্লাহ, এ ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠার পরিচয় দিচ্ছি। আমরা কোনো কিছুর সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করছি না।”