২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিতাংশু যশশ্চন্দ্রের কবিতা

হিন্দি থেকে ভাষান্তর: অজিত দাশ

অজিত দাশ অজিত দাশ

Published : 03 Sep 2022, 08:14 PM

Updated : 04 Sep 2022, 05:56 PM

সিতাংশু যশশ্চন্দ্র সমসাময়িক গুজরাটি সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি, নাট্যকার এবং অনুবাদক। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি। সাহিত্যকৃতির জন্য ভারতের বেশ কয়েকটি পুরষ্কার পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য রচনা ‘জটায়ুর’ জন্য সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮৭ সালে এবং পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভুষিত হয়েছেন ২০০৬ সালে। ইমিরেটাস অধ্যাপক হিসেব ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। তিনি ভারতের একজন জাতীয় অধ্যাপক, সৌরাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন। গুজরাট সাহিত্য পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্ত ছিলেন ২০১৮ সালে। এছাড়াও ১৯৭৭ সালে ভারতীয় সাহিত্য একাডেমি, দিল্লী থেকে প্রকাশিত ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইন্ডিয়ান লিটেরেচার” এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে যুক্ত থাকার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর।

প্রতিটি জিনিস

প্রতিটি জিনিস আমার কাছে, দুইটি করে

প্রতিটি দরজা, প্রতিটি দেওয়াল, প্রতিটি চাঁদ

প্রতিটি মাঠ, শহর, চায়ের কাপ আর নক্ষত্র

একটা চায়ের কাপ ছিলো কাচের তৈরি

একইরকম আরেকটা কাপ ছিলো

স্টেইনলেস স্টীলের তৈরি।

কাচের নক্ষত্রকে

যতটা সম্ভব সাজিয়ে রাখি

যেনো দীর্ঘ সময় টিকে থাকে

মুহূর্ত, সপ্তাহ, বছর অথবা যুগ যুগ ধরে

সেগুলো টিকিয়ে রাখি,

যেন ভেঙে না যায়,

পাখির পালক থেকে,

যা করতে পারে ভেঙে টুকরো-টুকরো।

কোথাও যেন হাত ফসকে পড়ে না যায়

যেন ধাক্কা লেগে না যায় কোনো গাছের,

নিচে না পড়ে যায়

কারো খোলা জানালা দিয়ে

কাচের এই নক্ষত্র অথবা এই শহর।

এই চেষ্টায় লাগিয়ে দিয়েছি

আমার পুরো জীবন

শেষমেশ

কাচের তৈরি সেই চায়ের কাপ

যখন হঠাৎ ভেঙে গেল

অপ্রত্যাশিত।

তখন

ধীরে ধীরে

আমার মনে হলো

সমস্ত পৃথিবীই ঠেসে আছে

স্টীলের জিনিসে।

পানিতে গুটি ফেলি

পানিতে গুটি ফেলি

আর বেজে ওঠে প্রাসাদের ঝালর

একটা প্রাসাদ এমনও আছে

খুঁজতে খুঁজতে যাকে

চলে যায়

নগরের শেষ প্রান্ত

সন্ধ্যার লজ্জাবনত ডুবন্ত সূর্য

কাটাভরা রাতের উশখুশ

কোনো নক্ষত্রের রাস্তা ধরে

এসে পড়েছে ভোরের শেষপ্রান্তে

কিছু বলা যাচ্ছে না

আগুনের শিখায় গজায় লম্বা ডানা

উড়ে যাই চন্দন আকাশের চূড়োয়

বাদামী বিড়ালের মতো হাওয়ায়

ধাক্কা খাই

মদগন্ধা হাতির মতো

যা খুলে যায়

সে-ও এক প্রবেশদ্বার

তার অন্যদিকে যে প্রাসাদ

সেখানেও গুঞ্জন শোনা যায়

সেই ঝালর বেজে ওঠা প্রাসাদের

[গুজরাটি থেকে কবিতা দুইটি হিন্দিতে অনুবাদ করেছেন সুপরিচিত হিন্দি সাহিত্যের কবি ও গদ্যকার গগন গিল]