রোকেয়ার বিজ্ঞানচেতনার উৎস
নারীজাতি প্রকৃতিগতভাবে পুরুষ থেকে শ্রেষ্ঠতর, এমন কিছু যুক্তি একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক রম্যরচনায় প্রকাশ করেছিলাম একযুগেরও আগে, ২০০৯ সালে১। সেটি লেখার সময়ই বেগম রোকেয়ার 'সুলতানার স্বপ্ন'কে একটি উঁচুমানের বিজ্ঞান কল্পকাহিনী বলে মনে হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক ও বন্ধুদের সাথে এ নিয়ে আলোচনাও করেছি। গল্পটি যে আসলেই একটি প্রথম শ্রেণির বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, তা নিয়ে সম্প্রতি আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি২। তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জেগেছে তাঁর সময়ে স্ত্রীশিক্ষা বিবর্জিত সমাজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া বেগম রোকেয়া কীভাবে প্রাগ্রসর বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অধিকারী হয়েছিলেন? 'সুলতানার স্বপ্ন'র বাইরে অন্যান্য লেখায় কী কী বিজ্ঞান বিষয়ে তার জ্ঞান এবং বিজ্ঞান চেতনার প্রকাশ ঘটেছে?
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমি পরবর্তী একটি পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করবো। প্রথম প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া খুব সহজ নয়, বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন আছে। কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে রোকেয়ার নিজের লেখা পর্যালোচনা এবং ভারতে সমসাময়িক বিজ্ঞান চর্চার পরিবেশ বিবেচনা করে এ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। নিচে তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
রোকেয়ার বিজ্ঞান চেতনার উৎস – বিজ্ঞান চেতনা বলতে আমি বিজ্ঞান-মনস্কতার কথা বুঝাচ্ছি না। বিজ্ঞান মনস্কতা হচ্ছে যুক্তিশীলতা এবং যুক্তি দ্বারা ঘটনা বা পরিবেশ বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, যা তাঁর প্রতিটি লেখায় সুস্পষ্ট। আমার কাছে বিজ্ঞান চেতনা হচ্ছে বিশ্ব, সমাজ ও সংসারকে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলোকে বিচার ও বিশ্লেষণ করা এবং সমস্যার সমাধান খোঁজা। রোকেয়া এই চেতনার এক আশ্চর্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর ‘সুলতানার স্বপ্ন’ বইতে ২। তাঁর সময়কার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু নিজে বিজ্ঞানী ছিলেন। সাহিত্য রচনায় তিনি যে কঠিন বিজ্ঞানকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই৩। জগদানন্দ রায়ও তেমনি ছিলেন বিজ্ঞানের শিক্ষক। তাই বাংলায় অসংখ্য বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থে বিজ্ঞানকে তিনি সার্থকভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন৪। এঁদের তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত কিন্তু বিজ্ঞান বিষয়কে অবলম্বন করে লেখা বেগম রোকেয়ার অবস্থাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘সুলতানা’স ড্রিম’ লেখার আগে সামাজিক বিষয়ে দুয়েকটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে থাকলেও তাঁর পরিচিতি নিতান্ত এক গৃহবধূর বেশি কিছু ছিল না। এই কারণেই বেগম রোকেয়ার বিজ্ঞান চেতনার উৎস কোথায় প্রশ্নটি এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দেয়।
মানুষ মূলতঃ তিন প্রকারে জ্ঞান আহরণ করে থাকে। দেখে, শুনে, এবং পড়ে। বিজ্ঞানের যে সব তথ্যকে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গল্পে তিনি কাজে লাগিয়েছেন অথচ এর অধিকাংশই তিনি যে স্বচক্ষে অবলোকন করেননি, তাঁর সময়ে ভারতের বিরাজমান অবস্থা বিবেচনা করে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞানের ছাত্রী না হয়েও তিনি বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎমুখী যে সব উৎকর্ষের কথা বলেছেন, তাঁর সময়ের বিচারে তা শুধু ক্ষণজন্মা, চিন্তাশীল দার্শনিক এবং অত্যন্ত মেধাবী কোনো ব্যক্তির ভাবনায়ই উদ্রেক হওয়া সম্ভব। কলকাতা তথা ভারতবর্ষে তখন জগদীশচন্দ্র বসু ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়-এর প্রচেষ্টায় আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার মাত্র উন্মেষ ঘটছে। তাঁদের বা তখনকার অন্য কোনো বিজ্ঞানীর সাথে রোকেয়ার সাক্ষাৎ ঘটেছিল কিনা জানা যায় না। খুব সম্ভবত না, কারণ সম্ভ্রান্ত মুসলমান পর্দানশীন মহিলা হিসেবে পরপুরুষের সামনে যাওয়া তাঁর বারণ ছিল। ‘স্কুল কমিটিতে রোকেয়া বাহির হইতেন না। স্কুল কমিটিতে প্রায় সবাই পুরুষ মেম্বার’,৫ ( শামসুন নাহার, রোকেয়া জীবনী, ১৯৩৭ পৃ ৫৯)।
কোনো বিজ্ঞানীর সাথে সরাসরি পরিচয় না হলেও এবং ভারতবর্ষে পাশ্চাত্যের মতো আধুনিক বিজ্ঞান চর্চা মাত্র শুরু হলেও রোকেয়ার বেড়ে ওঠার সময়ের আগেই বাংলাদেশে বিজ্ঞান বিষয়ে উৎসুক লোকের অভাব ছিল না। ২০১৪ সালে তপন চক্রবর্তী রচিত ‘বৃটিশ ভারতে বাংলা বিজ্ঞানসাহিত্য’ বই ৬ থেকে জানা যায় ‘বৃটিশ রাজত্বে বাংলায় বিজ্ঞানসাহিত্য রচনার ইতিহাস দু’শ বছরের অধিক’। শুধু তাই নয়, ১৮০০ থেকে ১৯০০ খৃষ্টাব্দের মাঝে বাংলায় বিজ্ঞান সচেতনতা বৃদ্ধিতে যাঁরা এগিয়ে এসেছিলেন তাঁদের মাঝে ছিলেন রাজা রামমোহন রায়, লর্ড মিন্টো, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সহ অন্ততঃ ৩৫ জন বৃটিশ ও বাঙালি। সিদ্ধার্থ জোয়ারদারের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধ ৭ (বিজ্ঞান কথা, পৃ১৩) থেকে জানতে পারি যে ১৮১৭ সালে জনৈক রবার্ট মে নামে এক বৃটিশ নাগরিক ‘অঙ্কপুস্তকং’ নামে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের প্রথম বই রচনা ও প্রকাশ করেছিলেন। এরপর রামকমল সেন নামে প্রথম কোনো ভারতীয় এবং প্রথম বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা বই ‘ঔষধ সার সংগ্রহ’ বইটি প্রকাশিত হয় ১৮১৯ সালে। সে বইতে জনসাধারণের বোঝার উপযুক্ত করে ৫৬টি ওষুধের নাম, উদ্ভব, ব্যবহার পদ্ধতি, ও উপকারের কথা বর্ণিত ছিল। এর পরই আসে সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম (১৮৩৮-১৮৯৪ খৃ)। তিনি বেশ ক’টি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ যেমন, ‘সৌরজগৎ’, ‘আকাশে কত তারা আছে’, ‘গগণ পর্যটন’, ‘চঞ্চল জগৎ’, ‘পরিমান রহস্য’, ও ‘চন্দ্রলোক’ নামে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাবো যে বেগম রোকেয়াও ‘সৌরজগৎ’ নামে একটি চমৎকার গল্প লিখেছিলেন।
বিজ্ঞানী না হয়েও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খৃ) কিছু বিখ্যত বিজ্ঞানীর জীবনী সম্বলিত ‘জীবনচরিত’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন ১৮৫০ সালে।৭ এছাড়া প্রাণী, উদ্ভিদ, মানবজাতি, পঞ্চইন্দ্রিয়, ধাতু, প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, ও ভূবিদ্যা বিষয়ে অনেক প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন, যা ‘বোধোধয়’ নামের বইতে স্থান পেয়েছিল। বাংলা বিজ্ঞান-সাহিত্যের সম্রাট আচার্য রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী (১৮৬৪-১৯১৯ খৃ) জিজ্ঞাসা, প্রকৃতি, ও বিচিত্র জগত নামে বিজ্ঞান বিষয়ক পুস্তক প্রকাশ করেছিলেন। শিশু ও কিশোরদের উদ্দেশ্যে রোকেয়ার সমসাময়িক শান্তিনিকেতনের বিজ্ঞান শিক্ষক জগদানন্দ রায় ন্যূনতম ১৫টি বিজ্ঞানগ্রন্থ রচনা লিখেছিলেন।৭ এই লেখকের একটি গল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৪।
ধারণা করি তখনকার যে কোনো বিদ্যোৎসাহী পরিবারের মতোই বেগম রোকেয়ার (১৮৮০-১৯৩২) বাড়িতেও শিক্ষামূলক বইয়ের কদর ছিল। আমার নিজের বেড়ে ওঠার সময়ও পুরুষানুক্রমে পাওয়া বিদ্যাসাগরের ‘বাল্যশিক্ষা’ থেকে অনেক পাঠ আমাদের মুখস্ত করতে হতো। কিন্তু আমরা এও জানি যে উর্দু, ফার্সি ও আরবির বাইরে রোকেয়ার বাবা সন্তানদের ইংরেজি শিক্ষায় উৎসাহ দিলেও সেখানে বাংলার প্রচলন একেবারেই ছিল না। বিয়ের আগে লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি যতোটুকু বাংলা শিখেছিলেন, তা ছিল তাঁর মাতৃসম বড়বোন ও কবি বেগম করিমুন্নেসার কাছে। এই করিমুন্নেসার কাছে উপরোক্ত বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের সংগ্রহ ছিল কিনা আমরা জানি না। কিন্তু শামসুন নাহার প্রণীত রোকেয়া-জীবনী বই থেকে জানতে পারি বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ছোটো বোনটিকে ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষিত করে তুলতে তৎপর ছিলেন। ১৮৯৬ সালে বিয়ের পর স্বামীর আগ্রহ এবং উৎসাহে রোকেয়া বাংলায় তাঁর সাহিত্যচর্চার যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তখন এইসব এবং ইংরেজিতে লেখা অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয়ক বই তাঁর হস্তগত হবার সমূহ সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা যায়। সেসব বই থেকে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে রোকেয়ার আগ্রহ ও উৎসাহ জাগ্রত হয়ে থাকতে পারে।
আমরা জানি যে বিয়ের আগে তাঁর স্বামী সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন বৃত্তি নিয়ে বিলাত গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আধুনিক কৃষি-বিজ্ঞানে প্রশিক্ষিত হয়ে অনেকগুলো প্রাইজ ও মেডেল নিয়ে এসেছিলেন ৮ (পিডিএফ পৃ৬১২), এবং ‘ফেলো অব রয়াল সোসাইটি অব এগ্রিকালচার’ হয়েছিলেন৯। অপ্রাতিষ্ঠানিক হলেও রোকেয়ার শিক্ষা, সাহিত্যচর্চা এবং নারী অধিকার নিয়ে লেখালেখিতে তাঁর স্বামীর যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করেছিল তা রোকেয়ার প্রায় সব জীবনীকাররাই মেনে নিয়েছেন ৫,৮,৯। এই তথ্য থেকে এবং ‘সুলতানার স্বপ্ন’তে বিজ্ঞানের যে যে উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তা থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে স্বামীর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দ্বারাও তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন।
তবে বিজ্ঞান চেতনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্বামীর বৈজ্ঞানিক সত্তাই কাজ করেছে বললে লেখক রোকেয়ার প্রতি চরম অবিচার করা হবে। অনেকগুলোর মাঝে শুধুমাত্র দুটি উদাহরণ দিয়ে বিজ্ঞানের প্রতি রোকেয়ার নিজস্ব মেধা এবং আস্থার প্রমাণ দেয়া যায়। রোকেয়ার স্বামী মারা যান ১৯০৯ সালে। এর প্রায় ১৯ বছর পর ১৯২৮ সালে তিনি তাঁর দ্বিতীয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী (১০) প্রকাশ করেন। ‘সুলতানার স্বপ্ন’র বিপরীতে সঠিক অর্থে এই গল্পটিকে নারীবাদী বলা যায় না। পৃথক একটি প্রবন্ধে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ ছাড়া স্বামীর মৃত্যুর প্রায় ১৫ বছর পর এন্ডি (গুটিপোকা) শিল্প, যা কৃষি বিজ্ঞানেরই একটি অঙ্গ, তা নিয়ে চমৎকার দুটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। এ দুটো নিয়েও পরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এ ছাড়া তাঁর সময়ে প্রকাশিত বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য সম্বলিত সব ধরণের পত্র পত্রিকারও তিনি বুভুক্ষু পাঠক ছিলেন বলে ধরে নিতে পারি। রোকেয়ার বেড়ে ওঠা সময়ে কলিকাতাকেন্দ্রিক ভারতবর্ষের শিক্ষিত সমাজে বিজ্ঞান চর্চায় যে যথেষ্ট উৎসাহ ছিল, তা আগেই উল্লেখ করেছি। সেই সময়টাতে বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও সাময়িকীর পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞান পত্রিকাও প্রকাশ হয়েছিল। বিজ্ঞান-কথা পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধ ১১ থেকে জানতে পারি, তৎকালে বিজ্ঞান চর্চার জন্য ভারতে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হতো: বিজ্ঞান কৌমুদী (১৮৬০), বিজ্ঞান রহস্য (১৮৭১), বিজ্ঞান বিকাশ (১৮৭৩), অণুবীক্ষণ (১৮৭৫), বিজ্ঞান দর্পন (১৮৭৬), বিশ্বকর্মা বা বিজ্ঞান-রহস্য (১৮৮৬), সাহিত্য ও বিজ্ঞান (১৮৯৬), বিজ্ঞান (১৮৯৫), প্রভৃতি। এছাড়া সেই সময়কার পত্রপত্রিকার অধিকাংশের বিষয়ই ছিল স্বাস্থ্য ও কৃষি বিজ্ঞান। পত্রিকার নাম থেকেই তা অনুধাবন করা যায়: চিকিৎসক, চিকিতসা সংগ্রহ, চিকিৎসা দর্পণ, চিকিৎসাতত্ত্ব, চিকিৎসা সম্মিলনী, চিকিৎসা লহরী, ভেষজ দর্পণ, স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, কৃষি পদ্ধতি, কৃষি গ্যাজেট, সচিত্র কৃষি শিক্ষা, গণিত ও গণিত সম্বন্ধীয় মাসিক পত্রিকা (১৮৮৯)।
অন্তঃপুরবাসিনী হলেও রোকেয়া এই ধরণের কিছু কিছু পত্রিকা শুধু পাঠ নয়, বিষয়গুলো তিনি আত্মস্থও করেছিলেন। অন্যথায় যে কৃতিত্বের সাথে কঠিন বিজ্ঞানকে তিনি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও যুদ্ধবিদ্যার সাথে একীভূত করেছেন তা অসম্ভব হতো। সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ১১ তাঁর নিবন্ধে লিখেছেন ‘যদি এই সময়ে বিজ্ঞান পত্রিকার চরিত্র নির্ধারণ করতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় মূল বিষয় ছিল স্বাস্থ্য এবং কৃষি’। পরবর্তী একটি প্রবন্ধে আমরা দেখতে পাবো, অসংখ্য লেখার মাঝে রোকেয়া স্বাস্থ্য, এবং উদ্ভিদ ও কৃষি বিজ্ঞান বিষয়েই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিজ্ঞানে আগ্রহের ব্যাপারে রোকেয়া যে তাঁর সময়েরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন তা এই উদ্ধৃতিই প্রমাণ বহন করে।
তাঁর সমসাময়িক অন্য কারো লেখায় রোকেয়ার জীবনী বা তাঁর বিজ্ঞান চেতনার উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। তাঁর মৃত্যুর মাত্র সাত বছর পর শামসুন নাহার রচিত রোকেয়া জীবনী গ্রন্থকেই আমরা তাঁর প্রথম জীবনীগ্রন্থ বলে জানি। বয়সে অনেক ছোটো হলেও রোকেয়ার জীবনের শেষ সাতটি বছর এই জীবনীকার রোকেয়ার সান্নিধ্যে থেকে তাঁর স্কুলের অনেক দাপ্তরিক কাজ করে দিতেন। সেই বইতেও ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ঘিরে একটি উদ্ধৃতি ছাড়া বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে রোকেয়ার আগ্রহ এবং পারদর্শিতা সম্পর্কে কোনো আলোচনা দেখতে পাই না। অথচ সেই গল্প এবং রোকেয়ার অন্যান্য রচনা পড়লে কোনো সন্দেহ থাকে না যে সমসাময়িক বিজ্ঞান সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন। তাই এ সংক্রান্ত নূতন কোনো গবেষণার অভাবে আমরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েই ধরে নিতে পারি যে ভারতে প্রাপ্ত সমসাময়িক বিজ্ঞান বই এবং বিজ্ঞান সাময়িকী পড়েই তাঁর বিজ্ঞান চেতনার উন্মেষ ও পূর্ণতা লাভ করেছিল। মনে রাখতে হবে রোকেয়া এক অনন্যসাধারণ ও তীক্ষ্ণ অনুসন্ধানী মেধার অধিকারী ছিলেন।
1. আমি কার বাবা রে, আমি কার খালু রে, আশরাফ আহমেদ (২০০৯), মাসিক ‘পড়শী’র সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০০৯ সংখ্যা (সম্পাদক মাহমুদুল হাসান), যোগাযোগ ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিমোন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া
2. বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি আদর্শ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, আশরাফ আহমেদ (২০২২), বিডিনিউজ২৪ডটকম এর আর্টস বিভাগ ১১ই জানুয়ারি, ২০২২ https://bangla.bdnews24.com/arts/archives/35478
3. জগদীশ্চন্দ্র বসুর ‘পলাতক তুফান’ একটি উৎকৃষ্ট ব্যঙ্গ-রসাত্মক গল্প, আশরাফ আহমেদ (২০২২), বিডিনিউজ২৪ডটকম এর আর্টস বিভাগ ১১ই জানুয়ারি, ২০২২ https://bangla.bdnews24.com/arts/archives/36115
4. জগদানন্দ রায়ের শুক্রভ্রমণ কি আদৌ কোনো কল্পবিজ্ঞান?, আশরাফ আহমেদ (২০২২), বিডিনিউজ২৪ডটকম এর আর্টস বিভাগ ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২
5. রোকেয়া-জীবনী, শামসুন নাহার (১৯৩৭), বুলবুল পাবলিশিং হাউজ, কলিকাতা
https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.454164/page/n128/mode/1up?view=theater ২০২২ সালের ১০ই ডিসেম্বরে সর্বশেষ পঠিত বা নামানো (ডাউনলোড-কৃত)
6. বৃটিশ ভারতে বাংলা বিজ্ঞানসাহিত্য, তপন চক্রবর্তী (২০১৪), গ্রন্থ কুটির, ঢাকা
7. বাংলায় জনবিজ্ঞান প্রচার ও প্রসারের ঐতিহ্য, সিদ্ধার্থ জোয়ারদার (২০২১), বিজ্ঞান কথা, আগস্ট ২০২১, পৃ ১৩ (নকুল পারাশর ও রিন্টু নাথ সম্পাদিত), নয়ডা, উত্তর প্রদেশ https://vigyanprasar.gov.in/bengali/bigyan-katha/bigyan-katha-2021/ ২০২২ সালের ১০ই ডিসেম্বরে সর্বশেষ পঠিত বা নামানো (ডাউনলোড-কৃত)
8. রোকেয়া-রচনাবলী,আবদুল কাদির (সম্পাদক) (২০১৫), পৃ ৫৯০, পিডিএফ পৃ ৬১২,, দ্বিতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, ২০১৫, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, বাংলাদেশ Rokeya Rachanabali : Kadir, Abdul Ed. : Free Download, Borrow, and Streaming : Internet Archive পৃষ্ঠা ১০২) ২০২১ সালের ৩১শে ডিসেম্বরে সর্বশেষ পঠিত বা নামানো (ডাউনলোড-কৃত)।
9. নারী প্রগতির একশো বছর রামসুন্দরী থেকে রোকেয়া, গোলাম মুর্শিদ (২০১৩), পৃ ১৬৯-২১০, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ঢাকা
10. উন্নতির পথে রোকেয়ার আরেকটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, আশরাফ আহমেদ (২০২৩) বিডিনিউজ২৪ডটকম এর আর্টস বিভাগ ১৪ই মে, ২০২৩। https://bangla.bdnews24.com/arts/wva68fm3hu?fbclid=IwAR2g60h7s9Kjebga9VmNxdR_n8bxutX4oJdunqlBKvGtTfVLl10TUt9enzg
11. বাংলা বিজ্ঞান সম্প্রচারের ইতিহাস পরিক্রমাঃ একটি রূপরেখা, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় (২০২১), বিজ্ঞান কথা, আগস্ট ২০২১, পৃ ৭ (নকুল পারাশর ও রিন্টু নাথ সম্পাদিত), নয়ডা, উত্তর প্রদেশ
https://vigyanprasar.gov.in/bengali/bigyan-katha/bigyan-katha-2021/ ২০২২ সালের ১০ই ডিসেম্বরে সর্বশেষ পঠিত বা নামানো (ডাউনলোড-কৃত)
