রাখালি কাব্যের জনক থেওক্রিতোস
থেওক্রিতোস (Θεόκριτος), সিরাকিউস বা সিসিলি থেকে এলেও, এ্যালেকসান্দ্রিয়ার সভাকবি মনোনিত হন। তিনি ৩০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সিসিলিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মারা যান। তিনি প্রাচীন গ্রীক পেস্টোরাল পোয়েট্রি তথা রাখালি কাব্য ধাঁচের বিউকলিক পয়েট্রি নামের বিশেষ সাহিত্য প্রকারের প্রচলন করেন, মেষ পালক, তাদের গান আর প্রেমই এধরনের কবিতার মূল উপজীব্য। বিউকিলক শব্দটি এসেছে গ্রীক বিকোলিকন (βουκολικόν) থেকে, গ্রীক বিকোলিকোস (βουκόλος) অর্থ রাখাল। থেওক্রিতোস ছিলেন ক্যালিমাখোঁসের (Καλλίμαχος) সমকালীন, এবং ক্যালিমাখোঁসের মতো উচ্চাঙ্গের বিশুদ্ধ, পরিমার্জিত কবিতার জন্য তাকে মূল্যায়িত করা হয়। তিনি এভাবে বাছাই হন, থেওক্রিতোস তলেমিদের প্রসংশাসূচক একটি একোমিয়াম রচনা করেন এবং এই কাব্যে তিনি দ্বিতীয় তলেমি, ফিলাদেলফোসের কাছে তার পৃষ্ঠপোশকতা কামনা করেন।
এখানে তার ইডিল-১৭ এর অনুবাদ তুলে ধরা হলো। দ্বিতীয় তলেমির এই ইনকোমিয়া তথা উচ্চ প্রসংশায় স্তোস্তগীতের আদলে রাজাকে একজন পরাক্রমশীল ব্যক্তিত্ব রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তার কাছে পৃষ্ঠপোষকতার পরোক্ষ আবেদনসহ তার পূর্বপুরুষ, জন্মবৃত্তান্ত, রাজ্য, সম্পদ, বৈরীতামুক্ত বিবাহিত জীবনের মতো প্রচলিত বিষয় সমূহ প্রসংশার উপকরণ হিসেবে বেছে নেয়া হয়। বিশেষ করে, এই কাব্যের শুরু এবং শেষের অংশে স্তবগীতের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এবং কবিতাটি সামগ্রিকভাবে স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝে তলেমির পদমর্যাদা তুলে ধরে তাকে অতীতের বীরোচিত সব ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এক কাতারে সামিল করে।
আপোল্লোর ওমারীয় এই স্তবগীত জানান দেয় কীভাবে বিভিন্ন দ্বীপভূমি লেতোর জন্মের অনুমোদনে ভীত ছিল এবং কীভাবে দেলোস তার পুত্র আপোল্লোসের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্মানিত করবার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তাকে আশ্রয় দেবার জন্য অতি সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তলেমির জন্মস্থান, কস দ্বীপে বসবাসকালীন থেওক্রিতোস ভবিষ্যত এই মানবেশ্বরকে স্বাগত জানাতে অনুরূপ একটি বক্তব্য প্রদান করেন এবং দেলোসের সমান্তরালে তাকে স্পষ্টভাবে চিত্রিত করেন।
তার এই কাব্যের সঙ্গে প্রায় সমকালীন ক্যালিমাখোঁস রচিত দেউসের স্তবগীতের লক্ষ্যণীয় সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে তলেমির প্রসংশার সঙ্গে ঈশ্বরের জন্ম সম্পর্কযুক্ত করতে, ঈগলকে দেউস তথা জিউসের পাখি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এবং তার সংসিদ্ধির একটি বরাতের মধ্যদিয়ে এর ইতি টানা হয়।
ভূমিকা ও তর্জমা: সোহরাব সুমন
আমরা দেউস থেকে শুরু করি এবং তাকে দিয়েই শেষ করি, মোজেস। ১
অবিনশ্বরদের মাঝে, দেউসই সেরা, কিন্তু আমরা যখনই গান ধরি
মানুষ হলে তলেমির নামই আসে প্রথমে, বা শেষে,
এবং মধ্যখানে, কেননা মানুষের মাঝে তিনিই সবচেয়ে বিশিষ্ট।
প্রাচীন বীরেরা জন্মে ছিলেন উপদেবতাদের ঔরষে ৫
এবং সফলতার সঙ্গে মহান সব কাজ সুসম্পন্ন করবার পর, দেখা গেছে বিজ্ঞ কবিরা
তাদের স্মরণীয় করে রেখেছেন, কিন্তু তারপরও আমি জানি কী করে প্রশংসা করতে হয়,
আমাকে তলেমির গান গাইতে দিন:১ কবিতারা ঈশ্বর বন্দনাও করে।
এই কাষ্ঠছেদক যে কিনা ঘন বনে ছাওয়া আইদা পাহাড় থেকে এসেছেন
উঁকি দিয়ে দেখছেন, অতিপ্রাচুর্য ঘেরা অবস্থায়, সে দেখছে কোথা থেকে শুরু করতে হবে ১০
এই কাজ। কার কথা আমি বলবো প্রথমে? দেবতাদের প্রাপ্ত সম্মান দেয়া হয়েছে
রাজাদের মাঝে শ্রেষ্ঠজন এতো বেশী উপহার পেয়েছেন যার বিবরণ শেষ হবার নয়।
এটা খুবই স্পষ্ট লাগুসের ছেলে তলেমি বংশের সবার থেকে
ছিলেন খাটো যে এমন এক মহান কাজ করবেন, যখন তার
মনে এমন এক বুদ্ধির উদয় কেউ তা কল্পনাও করতে পারেনি। ১৫
সেই পিতাও তাকে সমান শ্রদ্ধা করেন সেই আর্শীবাদপুষ্ট
নশ্বরের প্রতি, এবং এক স্বর্ণ সিংহাসন তার জন্য স্থাপিত দেউসের
বাড়ীর ভেতরে; তার পাশে আসন গ্রহণ করেন তার বন্ধুবর এলেকস্যান্দ্রোস,
পার্শিয়ানদের দ্বারা ঘৃনিত, এক দেবতা দীপ্তমান যার মুকুট।
এই দু'টি আসন পেরিয়ে আরো একটি কেদারা সেখানে বসে আছেন সেন্তর বধকারী ২০
হিরাক্লিয়াস, যা তৈরি করা হয়েছে অনড় অনমনীয় হৈরিক দিয়ে।
সেখানে, তিনি অন্য দেবতাদের সঙ্গে বসে ভোজন করেন তেমনি
নাতিপুতিদের নিয়ে প্রবল আমোদে মেতে থাকেন
কেননা ক্রোনাসের পুত্রের পদযুগল থেকে বয়সের ভার লাঘব করা হয়েছে
এবং তাই তার সন্তানদের অমর বলে অবিহিত করা হয়। ২৫
হিরাক্লিয়াসের শক্তিমান পুত্রেরা তলেমির বংশধর এবং এ্যালেকস্যান্দ্রসের
এবং তারা দুজনেই হিরাক্লিয়াসকে তাদের সত্যিকার পূর্বপুরুষ মানেন।২
তাই, এতসব সুগন্ধী সূধা অমৃত পান করবার পর
তার মনে অভিলাষ জাগে, তাই হিরাক্লিয়াস অন্তপুর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন,
তাদের একজনের হাতে তিনি তার ধনুকখানা তুলে দেন
এবং তীরের ঝোলাটা বগলদাবা করেন তার হাতের নীচে, ৩০
এবং অপর জনকে দেন গিঁট ওয়ালা খসখসে লোহার শক্ত মুগুরখানা
তারা যেন দেউসের শ্মশ্রুময় সন্তান তার অস্ত্রে সজ্জিত হবার পর
যেন তা ধবল হাঁটু সমেত তারুণ্যের দেবী হিবির অমৃত বিছানা।
কতই না দৃষ্টি আকর্ষক ছিলেন বিখ্যাত বেরেনিচে
বিদুষী মহিলাদের মাঝে, এবং তার পিতামাতার প্রতি কতই অনুগ্রহ। ৩৫
তারই সুগন্ধী স্তনে আউগুস্ত সাইপ্রাসের রাণী,
দাইওনে৩ কন্যা কোমল হাত ঠুকে ছিলেন; এবং তাই
বলা হয়ে থাকে কোনো লোক তার স্ত্রীকে এতো বেশী ভালোবাসেন না
যতটা ভালো তলেমি তার বেরেনিচেকে বাসেন।
কিন্তু তিনি তাকে আরো বেশী ভালোবাসতেন। এভাবেই, একজন ৪০
তার সন্তানদের প্রতি আস্থা ফিরে পেয়ে, তাদের দিয়ে দেন
সমস্ত সম্পত্তি, প্রেমময়ী স্ত্রীর সঙ্গে বিছানায় যাবার আগে।
কিন্তু যদি কোন নারী হয় হৃদয়হীনা, সব সময় সে অন্য কারো কথা ভাববে,
তারা অযত্নে জন্ম দিতে থাকবে, এবং শিশুরাও দেখতে হবে না তাদের বাবার মতো।
আফ্রোদাইত, গভীর শ্রদ্ধাময় পবিত্র দেবী, অনিন্দ্য সুন্দর, ৪৫
বেরেনিচে পেয়েছিল তোমার যত্ন; তোমার জন্যেই দেবী, মাধুর্যময়
বেরেনিচে করেননি অতিক্রম শোচনীয় নদ এক্রোন,
কিন্তু তুমি কেড়ে নিলে তাকে মুখোমুখি হবার আগেই সেই আন্ধকার
জাহাজের এবং মৃতদের সেই বিষণ্ন খেয়া মাঝির,
তুমি তাকে নিয়ে গেলে তোমার মন্দিরে, দিলে তাকে তোমার খানিক
সম্মান। ৫০
সেও সকল নশ্বরদের প্রতি দর্য়াদ্র ছিলো এবং সে তাদের অনুপ্রাণিত করে পেলব
ভালোবাসাতে, এবং সোহাগের আলো জ্বালান তাদের জন্য যারা তা পেতে আকুল।
আর্গোসের,৪ তমিশ্র ভ্রূ সমেত নারী, তুমি সেই অসভ্য দিওমেদিসকে বের করে আনলে
একজন ক্যালিদোনীয় লোক, তাইদেয়াসের সঙ্গে তোমার ঐক্যের মাধ্যমে;
গভীর-হৃদয়ের থেটিস বিদ্ধ করে তীর-ছুঁড়তে থাকা আখিল্লেওস ৫৫
থেকে এ্যাকুস পুত্র পেলিয়াসকে; আর আপনি তীরন্দাজ তলেমি,৫
কীর্তিমতী বেরেনিচে বিদ্ধ করলেন তীরন্দাজ তলেমিকে।
কজ৬ দ্বীপ আপনাকে প্রতিপালন করে, সদ্য জন্মানো শিশুর মতো
আপনার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে, যখন আপনি প্রথম আলোর পানে তাকালেন।
সেখানে আন্তিগন৭কন্যা, প্রসব বেদনায় কাতর হয়ে, ৬০
কাঁচুলি-মুক্ত এলিথিয়াকে ডাকেন;৮ এবং সে
সুপ্রসন্নভাবে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে এবং ব্যাথা লঘব হয়
তার সমস্ত পায়ের। সেই প্রিয় শিশু হন ভূমিষ্ঠ
এবং দেখতে তিনি ছিলেন তার বাবারই মতন। তা দেখে কজ আনন্দে লুটায়
এবং সদ্য অপত্যকে সদয় বাহুতে তুলে ধরে, বলেন, ৬৫
"তুমি ভাগ্যবান হও, হে নবজাতক, এবং আমাকে সম্মান করো
যতটা ফিবাস আপোল্লো সম্মান করে ঘন নীল বেলাভূমি
দিলাসকে;
এবং একই সম্মানে অভিষিক্ত সেই ত্রাইওপিয়ান পর্বত-সারি,৯
এবং বিলি করে দিও সমান সম্মান কাছের দোরিয়ানদের প্রতি;
রাজা আপোল্লো রিনায়াকে ভালোবাসেন দিলোসকে যতটা বাসেন।"১০ ৭০
দ্বীপ তাকে এসবই বলে। মাথার ওপর থেকে, বিশাল একটা ঈগল ডেকে ওঠে
মেঘের ভেতর থেকে পরপর তিনবার, ভাববাণী করা একটি পাখি।
এটা দেউসের পক্ষ থেকে এক চিহ্ন সরূপ: শ্রদ্ধেয় রাজা যত্নে থাকবেন
দেউসের, পুত্র ক্রোনাস। কিন্তু সবচেয়ে বিশিষ্ট তিনিই হবেন যাকে দেউস ভালোবাসবেন
তার জন্মমুহূর্ত হতে; ভাগ্য সবচেয়ে সুপ্রসন্ন তারই হবে এবং ৭৫
অনেক দেশ আর অনেক সমুদ্র শাসন করবেন।
অনেক মহাদেশ আর মানুষের অনেক জাতিগোষ্ঠী
তাদের ফসল ফলায়, দেউসের অনুগ্রহের বৃষ্টির জলে,
কিন্তু কোন ভূমিই মিসরের প্লাবনভূমির মতো এতটা নয় উর্বর,
যখন নীলাসের বন্যা ঢেলাগুলোকে পেলব করে তুলে, ৮০
এবং আর কোনো নগরে এতো অধিক সুদক্ষ নেই কারিগর।
মিসরের তিনশত নগর রয়েছে,
সেই সঙ্গে তিন সহস্র, তার সঙ্গে আরো অযুতের তিনগুণখানেক
তার সঙ্গে তিনের দ্বিগুণ, তার সঙ্গে নয়ের তিনগুণ,
এবং রাজা তলেমি এদের সমূহের শাসক। ৮৫
তার আরো অধিকার রয়েছে ফোনেশ্যা, আরব,
সিরিয়া, লিবিয়া, এবং সেই অন্ধকারাচ্ছান্ন ইথিওপীয়দের পরে;
তিনি হুকুম করবার রাখেন অধিকার সব প্যাম্ফিলীয়, সিসিলীয়
তীরন্দাজদের,
লাইসীয়, যুদ্ধবাজ কারিয়ানদের,
এবং সাইক্লাদস দ্বীপবাসীদের, কেননা তিনি সেরা সব জাহাজের মালিক ৯০
সাগরে পাল ওড়াবার জন্য। সমগ্র সাগর, সমস্ত ভূমি,
বয়ে চলা সকল নদী তলেমির শাসনাধীন;
অসংখ্য ঘোড়সাওয়ার, অসংখ্য বর্ম পরিহিত
জাজ্বল্যমান ব্রোঞ্জে সজ্জিত হয়ে, তারই চারপাশে সমবেত হন।
সম্পদের দিক দিয়ে তিনি সকল রাজাদের থেকেও ওজনে অধীক, ৯৫
তার সমৃদ্ধ প্রসাদে প্রতিদিন অগুনতি লোক আসে
সব জায়গা থেকে। লোকেরা নিরাপদে তাদের কাজে যোগ দেয়,
কেননা কোনো ভেতরকার শত্রু পেরতে পারেনা মীনে ভরপুর নীলাস
এবং যুদ্ধের দামামার শব্দ বাজে অন্যান্য নগরে,
কেউই লাফিয়ে পারে না নামতে দ্রুতগামী জাহাজ থেকে তীরে ১০০
এবং, বিদ্বেষীরা, পারে না ধরতে অস্ত্র মিসরের গবাদীপশুর বিরুদ্ধে।
এমনই এক লোক আন্দোলিত করে রাখেন এইসব সুবিস্তৃত সমতল,
মনোরম-কেশের তলেমি, বর্শা নিক্ষেপে অতি পারঙ্গম
যার কাছে এটা একটা সতর্কতা তার দায়ভার প্রহরার,
যেমন মানায় যোগ্য রাজাকে, এবং তিনি তাতে আরো কিছু যোগে ইচ্ছুক। ১০৫
কিন্তু সেইসব সোনা অনর্থক হয় না সংগ্রহ সেই ধনাঢ্য বাড়ীতে,
পিঁপড়েদের সম্পদের মতো অন্তহীন কঠোর পরিশ্রমে:১১
ওই ঈশ্বরের মন্দির সমূহও অঢেল পেয়ে থাকে,
যতক্ষণ তলেমি প্রথম জাত সব করেন উৎসর্গ এবং বাড়াতে থাকেন
আর সব সদ্যজাতেদের;
অঢেল দিয়েছেন তিনি ক্ষমতাধর রাজাদের, ১১০
অনেক দিয়েছেন নগরগুলোকে, এবং বাদ যাননি তার অভিজাত সহচরেরাও।
কেউই গাইতে পারে না ওতটা নির্মল-সুরে যে সঙ্গীত আসে ভেসে
দিওনিসোসের পূজনীয় প্রতিযোগিতা থেকে
যথোপযুক্ত কোন পুরস্কার ছাড়াই তার সেই প্রতিভাসহ।
যারা বলে মিউজেরা গীত-গানে-সঙ্গীতে তলেমির বন্দনা করে ১১৫
এইসব দানধ্যানে ভুলে। অন্তত, এর চেয়ে মহান আর কী হতে পরে
বিত্তের অধিকারী কারো জন্যে লোকেদের মাঝ থেকে এমন সুনাম কুড়াবার বদলে?
খ্যাতিই সব যা এইতার্সের১২ পুত্রদের জন্যে থেকে গিয়েছিল: বাকী যা
সম্পদ
তারা অর্জন করে যখন দখল নেয় প্রিয়ামের প্রকাণ্ড প্রাসাদের
তা এখন বিলিন সেই বিষাদ অন্ধকারে যা থেকে কোনকিছুই যায়নি পাওয়া। ১২০
এই লোক একা তাদের মাঝে যারা বহুদিন আগে জীবিত ছিলেন এবং তাদের যাদের
পায়ের ছাপ তখনও উষ্ণ ছিলো ধূলা মাড়িয়ে যাবার সময় তাদের পায়ের
নীচ দিয়ে,
নির্মাণ করেছেন ধূপ-ধূনা ছাওয়া মন্দির তাদের মা এবং বাবার তরে;
তার ভেতরে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রতিমা তাদের, স্বর্ণ আর গজদন্তে
তৈরি, যেন ত্রানকর্তা সকল নশ্বরের। ১২৫
সেখানেও, তিনি দেন আহুতি অজস্র চমৎকার ঊরু সমৃদ্ধ গবাদি পশুর
উজ্জ্বল বেদীর পরে, এভাবেই মাসের পর মাস হয় অতিক্রান্ত,
তার সুন্দরী বধূর সহিত, এরপর যাকে আর কোনো বউই ভালো করে
তার স্বামীকে আঁকড়ে থাকতে পারে না বাহুডোরে তার ঘরের ভেতরে,
কেননা সে মন থেকে লালন করে তার এই ভাই-স্বামীর তরে। ১৩০
সেও তো পবিত্র মিলন ছিল ওই যে অবিনশ্বরের
যাকে রাণী রিয়া কর্তৃত্বে প্রভাবিত করতেন অলিম্পাসে:১৩
আইরিশ, এখনও কুমারী, তার দুই হাত সুগন্ধিতে শোধনের পর,
একটি বিছানা সাজান দেউস আর হেরার নিদ্রার তরে।
বিদায়, রাজা তলেমি, আর আমি আপনাকে নিয়ে গাইবো এবং আরসব ১৩৫
নরদেবতাদের নিয়ে সমানভাবে, আর আমি যে কথা বলবো, মনে করি
কখনই তা হারিয়ে যাবে না
তাদের তরে যারা অনাগত। কিন্তু সেই মহিমা, অবশ্যই আপনাকে
চাইতে তো হবে পরাক্রমশালী দেউসের কাছে।
টিকা
১. প্রথম টলেমি সোতের (Soter), "ত্রাণকর্তা।"
২. প্রাচীন বিশ্বে মাকিদোনিয়ার রাজ পরিবারের বংশবৃত্তান্তে হিরাক্লিয়াসের বংশধর ক্যারানুস নামের একজনের সন্ধান মিলে।
৩. ওমারের লেখাতে এ্যাফ্রোদাইত দেউস ও দাইওনে-এর কন্যা।
৪. দেইপাইলে ছিলেন রাজা আর্গোসের কন্যা এবং তাইদিয়াসের স্ত্রী।
৫. দ্বিতীয় তলেমি ফিলাদেলফোস।
৬. দক্ষিণপূর্ব ঈজিয়ান সাগরের একটি দ্বীপ।
৭. বেরেনিচে ছিলেন আন্তিগনের কন্যা।
৮. প্রসুতি দেবী।
৯. একসময় দক্ষিণপশ্চিম এশিয়ার মাইনরের এক অন্তরীপে ত্রাইওপিয়ান আপোল্লোর একটা মন্দির ছিল।
১০. রিনায়া: দেলোসের কাছের একটা দ্বীপ।
১১. হেরোদোতাস বলেছেন "পিঁপড়া" (বলতে সম্ভবত কাঠবিড়ালি জাতীয় প্রাণীকে বুঝিয়েছেন) তাদের গর্ত খোড়ার সময় স্বর্ণ সংগ্রহ করে (৩.১০২-৫)। ১৯৮৪ তে প্রকাশিত প্যাসিয়েল দেখুন।
১২. আগামেমনন ও মেনেলিয়াস।
১৩. উদাহরণ সরূপ দেউস ও হেরা।
তথ্যসহায়
Theocritus, Idyll 17 (278–270 B.C., Greek, verse)
https://www.loebclassics.com/view/theocritus-poems
