Published : 10 Feb 2026, 09:43 PM
নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়–এমন কিছু বিএনপি নেতাকর্মীরা করবেন না বলে নির্বাচন কমিশনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
দলটির স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “আমরা আশা করি যে আমাদের দলের কোনো নেতাকর্মী, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়–এমন কিছু করবে না।"
নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ভোটের এক দিন আগে মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে।ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা মনে করছেন কি না।
জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে বা বিঘ্নিত হবে বলে মনে হয় না, অবশ্য এখনো আরো একদিন সময় আছে। কী হবে আমরা জানি না, কিন্তু আমরা আশা করি যে পরিস্থিতি অবনতি হবে না।
“যারা এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, তারা সবাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লড়াইয়ে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলাম।যারা এর বিরুদ্ধে ছিল তারা তো নির্বাচনে নাই। আমাদের আচরণ এমন কেন থাকবে, যাতে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?”
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের প্রচার পর্বের যে পরিবেশ, তাতে তার মনে হয়েছে, নির্বাচন ‘অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হবে এবং বিএনপির প্রার্থীরা ‘বিপুল সংখ্যায়, বিপুল ভোটে’ বিজয়ী হবেন।
ভোটের প্রচারের সময় শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তে বিএনপির পক্ষ থেকে ইসিকে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের প্রার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে, আমাদের এজেন্টদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। আমাদের পরামর্শ-উপদেশের নির্দেশ এগুলো আমরা সেখানে পাঠাই। প্রত্যেকটা নির্দেশ এবং পরামর্শে আমরা বলেছি যে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।
"আমাদের সমস্ত কার্যক্রম যেন তার (সুষ্ঠু নির্বাচনের) পক্ষে থাকে এবং আমাদের কোনো কাজই যেন এর বিপক্ষে না হয় এবং সেরকম কিছু হলে আমরা এটাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিরুদ্ধ বলে মনে করব।”
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "যদি ব্যালট বাক্স নির্বাচনের দিন সকালে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাত, আমরা খুশি হতাম। কিন্তু এই দেশে বহু নির্বাচনি এলাকা আছে, যেখানে যিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার, যার কাছে যার মাধ্যমে এটা বিলি হয়, সেখান থেকে কিংবা আপনার থানা হেডকোয়ার্টার থেকে নির্বাচন কেন্দ্রগুলো অনেক দূরে। আমাদের এবার ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায়, আর এখন শীতের দিন, ভোর হয় একটু দেরিতে।
"এইজন্য ওইদিন সকালে পৌঁছাতে হবে, তাহলেও কিন্তু রাত্রে বেলা এই পরিবহনের কাজটা করতে হবে যেটা অনেক সময় রিস্কি হতে পারে। ব্যালট বাক্স তো ট্রান্সপারেন্ট হবে, স্বচ্ছ। আমরা বলেছি, ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসারের ওখানে থাকবে না, এজেন্টদের সামনে প্রকাশ্য জায়গায় যেন থাকে। কেউ চাইলেও যেন এটা ভরতে না পারে।"
নির্বাচনের সময় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।
জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "আমরা মনে করি জঙ্গির ব্যাপারটা অনেক সময় অনেক বড় করে দেখানো হয় আমাদের দেশে। অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা দেখানো হয়।
“আর এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের কোনো বিকল্প নাই। সবসময় আইন দিয়ে জঙ্গি দমন করা যায় না। এটার জন্য প্রয়োজন হয় গণসচেতনতা এবং গণপ্রতিরোধ।"