Published : 23 Jan 2026, 01:18 AM
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামে এসে নির্বাচনী মহাসমাবেশে চট্টগ্রামবাসীকে নতুন ‘বার্তা’ দেবেন বলে বলে আশা করছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।
তারা বলছেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠের এ জনসভা হতে পারে চট্টগ্রামে ‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড়’ মহাসমাবেশ। তারেক রহমান সেখানে তার পরিকল্পনার কথা শোনাবেন।
প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন দেশের মাটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন. “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।”
দেশে ফেরার ঠিক একমাস পর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। তাই চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা আশা করছেন, তাদের দলীয় প্রধান চট্টগ্রামবাসীকে তার সেই ‘প্ল্যান’ শোনাবেন।
২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তিনি।
২৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় এ মাঠে তার মা খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল।
তারেক রহমানের এবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০১২ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার একটা সমাবেশ হয়েছিল এ মাঠে। সবাই বলেছে আশেপাশে মিলিয়ে ১৬ লাখ লোক সমাগম হয়েছিল।”
খালেদা জিয়ার ওই সমাবেশকে ‘স্মরণকালের স্মরণীয়’ জনসভা দাবি করে তিনি বলেন, এরপর মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মীর্জা আব্বাস, গয়েস্বর চন্দ্র রায়রাও এ মাঠে সমাবেশ করে গেছেন।
শাহাদাতের ভাষ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসার পর মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনই দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের মহাসমাবেশকে ঘিরে।
“শুধু চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ নগর বিএনপি না, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখার জন্য, বক্তব্য শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।
বিএনপি নেতা শাহাদাতের আশা, আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সমাবেশে তারেক রহমান বক্তব্য ‘সবার হৃদয় জয় করবে’।

দলটির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলছেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “সমাবেশকে কীভাবে জনসমুদ্রে পরিণত করা যায়, তার প্রস্তুতি চলছে। তারেক রহমান ২০ বছর পর চট্টগ্রামে আসছেন। এ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের।”
সমাবেশের নিরাপত্তা নিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “মঞ্চের সামনে ৩৫ ফুটের একটা ব্যারিকেড থাকবে। মঞ্চ নির্মাণ চলছে, সিএসএফ আসবে। উনাদের যে ডিজাইন আমরা পাঠিয়েছি, সেটা তারা দেখবেন। যদি কিছু পরিবর্তন করতে হয় করা হবে।”
২৪ জানুয়ারির বিকালের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে আসবেন তারেক রহমান। পরদিন বেলা ১১টায় মহাসমাবেশে যোগ দেবেন।
বিএনপি নেতা বক্কর বলেন, “তারেক রহমান আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। চট্টগ্রামবাসীর জন্য কোনো বার্তা নিয়ে আসছেন উনি। দল ক্ষমতায় গেলে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে কীভাবে ঢেলে সাজাবেন, তার বক্তব্যে সে ধরনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে।”
এ জনসভা স্মরণীয় হয় থাকবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পলোগ্রাউন্ডে সর্বপ্রথম জনসমাবেশ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া, উনি বিরোধী দলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায়। ওই সময় অনেকেই মনে করেছিল আমরা হয়ত মাঠ ভর্তি করতে পারব না। সেসময় শুধু পলোগ্রাইন্ড না আশেপাশের দুই কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত করেছিলাম।
“এর পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের ম্যাডাম যখন কারাগারে ছিলেন, তখন শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জনসমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছি।”
তারেক রহমানের চট্টগ্রামে আগমন উপলক্ষে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘ঈদের আমেজ’ কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য সচিব মো. হাছান।
তিনি আশা করছেন, নির্বাচন নিয়ে এবং আগামী দিনের দলগঠন নিয়ে তারেক রহমান দিক নির্দেশনা দেবেন তার বক্তব্যে।
১০০ ফুট মঞ্চ
পলোগ্রাউন্ড মাঠে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক কাজ সারতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন দলের বড় বড় সমাবেশের মত এ মঞ্চ তৈরির কাজও পেয়েছে শাহাবউদ্দিন ডেকোরেটর্স।
কাজের তদারকিতে থাকা ডেকোরেটর্সের ব্যবস্থাপক খন্দকার মানিক আহামেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। উচ্চতা হবে ৭ ফুট। যেখানে অন্তত ৩০০ লোক বসতে পারবেন।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৫০ জন শ্রমিক দিন রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে জনসভার মঞ্চ তৈরিতে।