১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট নিয়ে ইসির ‘শঙ্কা’ আছে? জানতে চাইল ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন

ইসি ইতোমধ্যে ১১৬ আসনে ব্যালট পাঠিয়েছে, বাকি ব্যালট ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাবে, বলেন আখতার আহমেদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 10:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি কেমন, আর ভোট নিয়ে তাদের কোনো শঙ্কা আছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস।

বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ইইউ নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের বৈঠকে তারা এসব বিষয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও জানতে চেয়েছে।

পরে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে বলেন, “তারা মূলত নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আমরা যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এ ব্যাপারে ওনাদের কিছু কৌতুহল ছিল। দুটো বিষয়ে যে মূলত কৌতুহলটা ছিল - আমাদের প্রস্তুতি কী আর দ্বিতীয় জিনিসটা হচ্ছে যে আমাদের দিক থেকে আশঙ্কার কোন কিছু আছে কিনা।”

আগামী বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও হবে। তার আগে মঙ্গলবার সকালে ভোটের প্রচার শেষ করবেন প্রার্থীরা। 

এই ভোট সামনে রেখে ইইউর নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ইভার্স ইইয়াবসের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন-ইসির সঙ্গে বৈঠক করে।

ব্যালট পেপার নির্বাচনি এলাকায় পৌঁছানো ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছে ইসি।

ইসি সচিব বলেন, “আমরা প্রস্তুতি সম্পর্কে বললাম। ইতোমধ্যে ১১৬  আসনের ব্যালট পেপার আমরা পাঠিয়েছি এবং রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর বাকিটা আমরা ইন দা প্রসেস এবং ৭ ফেব্রুয়ারির ভেতরে ইনশআল্লাহ বাকি ব্যালটগুলো পৌঁছে দিতে পারব।”

আদালতের আদেশে কিছু আসনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনের ব্যালট পেপার পুনঃমুদ্রণের কারণে বিলম্ব হয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

“কয়েকটা জায়গায় আমাদের ব্যালটটা পুনঃমুদ্রণ করতে হয়েছে শেষ মুহূর্তে। মাননীয় আদালতের নির্দেশে কিছু প্রার্থীদের ফিরে পাওয়ায় কয়েকটা জায়গায় আমাদের ব্যালট রিপ্রিন্ট করতে হয়েছে বা চেঞ্জ করতে হয়েছে। সেই কারণে সাত তারিখ ,আদারওয়াইজ আমরা, উই আর অন টাইম।”

এবারের ভোটে অপতথ্য মোকাবেলাকে চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে।

ইইউ প্রতিনিধিদের আগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আরেকটা জিনিস জিজ্ঞেস করেছে- এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জটা কোনটা? তো স্বাভাবিকভাবে যে চ্যালেঞ্জটা আগাগোড়াই বলে আসছি; সেটা হচ্ছে যে অপতথ্য যেটা হচ্ছে তথ্যের অপপ্রচার।”

অপতথ্য মোকাবেলায় ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটা এর সাথেও আলোচনা করা হয়েছে।

“আমরা মেটার সাথে আলোচনা করেছি এবং আমরা কথা বলছি এবং দেখি আমরা আশা করি যে মেটা আমাদের এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।”

তিনি বলেন, আমরা চাই না যে আপনার নেটের স্পিড কমানো বা অন্য কারণে লেটেন্ট কোনো কিছু পদ্ধতিতে যাওয়ার পরিবর্তে বরং আমরা ডেরোগেটিভ কমেন্টস যেগুলো আছে বা বিদ্রুপাত্মক বা আক্রমণাত্মক কন্টেন্টগুলো বা অপপ্রচার যেগুলোন, সেগুলো যেন আপনার ডাউন করা হয়। সেটা আমরা সেইভাবেই আর কি অনুরোধ করেছি।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভোটে নিরাপত্তা সদস্যদের মোতায়েন পরিকল্পনাও তুলে ধরে ইসি।

সচিব বলেন, “প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছে আমাদের মোতায়েন পরিকল্পনাটা কী? সাত দিন সেনাবাহিনী থাকবে, আট দিন আনসার থাকবে এবং পুলিশ অলরেডি আছে। সেনাবাহিনী অলরেডি মাঠে আছে। পুলিশ তাদের নরমাল ফাংশনিং-এ তো আছেই। 

“সেনাবাহিনী তাদের ডেপ্লয়মেন্টে আছে। কিন্তু এক্সক্লুসিভলি ফর ইলেকশন পারপাস যেটা, ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান সেটা। তার সংখ্যাগত হিসাবটা জানতে চেয়েছিলেন যে কত সংখ্যা ইত্যাদি।”

অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের অপেক্ষায় ইইউ: ইইয়াবস

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর ইইউ নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস বলেন, “আমাদের মূল কাজ হল, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা এবং মিশন শেষে আমাদের পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরা। আমরা বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। আমরা চাই আগামী বৃহস্পতিবার একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।”

আলোচনায় অগ্রাধিকার পাওয়া বিষয়গুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ইইউ চায় বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যেই আমাদের ৬০ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করছেন। আর পরশুদিন থেকে আমরা স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদেরও বিভিন্ন জেলায় পাঠাবো, যারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।”

আগের খবর:

সিইসির সঙ্গে বৈঠককী চ্যালেঞ্জ ভোটেশুনল ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন