১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বেড়েছে ‘ইসলামপন্থি’ প্রার্থী, কম নারী: টিআইবি

“নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলগুলোর ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্মান্ধতার মতো রাজনৈতিক চালিকাশক্তি।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2026, 09:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:37 PM

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা ‘ব্যাপক হারে’ বেড়েছে, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ ইসলামপন্থি দলের একজনও নারী প্রার্থী না থাকার তথ্য দিয়েছে ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

টিআইবি বলছে, এবার নারী প্রার্থীও কম।

বৃহস্পতিবার ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেনে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি। 

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

মূল প্রতিবেদন উপস্থাপনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন এবং তাদের প্রায় ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থী মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি, যা বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের হার নগণ্য এবং জুলাই সনদে প্রস্তাবিত ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেনি।

সংস্কারে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছতে সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীতা ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ ইসলামপন্থী দলের একজনও নারী প্রার্থী নেই। সার্বিকভাবে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে নারীদের হার মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশ। 

“অর্থাৎ যোগ্য এবং আগ্রহী নারী প্রার্থী নেই বলে রাজনৈতিক দলগুলো যে যুক্তি তোলে, তা ভিত্তিহীন। ইসলামপন্থি দলগুলো তো বটেই, বিএনপিসহ মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা-কেন্দ্রিক জোট রাজনীতির কারণে নারীরা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছে। নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলগুলোর ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্মান্ধতার মতো রাজনৈতিক চালিকাশক্তি।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা ভোটের প্রচার শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন:

বিএনপির ৫৯ শতাংশ প্রার্থীই 'ঋণগ্রস্ত': টিআইবি